মাধ্যমিক জৈব যৌগ সাজেশন। সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন। সমাবয়বতা। IUPAC নামকরন

মাধ্যমিক জৈব যৌগের রসায়ন সাজেশন। জৈব যৌগ কাকে বলে। সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত জৈব যৌগ। সমাবয়বতা ও তার প্রকারভেদ। অবস্থান ঘটিত ও কার্যকরী মূলক ঘটিত সমাবয়ব

আজকে আমরা দশম শ্রেণীর জৈব রসায়ন অধ্যায় থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করব যা এই মধ্যমিকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনা প্রসঙ্গে আমরা প্রথমেই জৈব যৌগ সম্পর্কিত কতগুলো বেসিক ধারণা নিয়ে আলোচনার সূচনা করব তারপর আমরা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করব।

    জৈব যৌগ দশম শ্রেণি

    দশম শ্রেণীর জৈব যৌগ অধ্যায়ের নম্বর বিভাজন


    অধ্যায়MCQ
    গ্রুপ-A
    VSA
    গ্রুপ-B
    SA
    গ্রুপ-C
    LA
    গ্রুপ-D
    Total
    জৈব রসায়ন1×11×22×1-8




    জৈব যৌগ কাকে বলে?

    জৈব যৌগ বলতে বোঝায় কার্বনের বিশালসংখ্যক যৌগের মধ্যে যে সমস্ত যৌগে ক্যাটিনেশন ও সমাবয়বতা ধর্ম দেখা যায় তাদেরকে।
      কার্বন ঘটিত যৌগ গুলির মধ্যে যেগুলি জৈব যৌগ রূপে পরিগণিত হয় না সেগুলি হল কার্বনের বিভিন্ন অক্সাইড কার্বনেট ও বাই কার্বনেট হাইড্রোজেন সায়ানাইড বিভিন্ন ধাতব সায়ানাইড ও সায়ানেট , থায়োসায়ানেটের, ও কার্বন ডাই সালফাইড প্রভৃতি যৌগ সমূহ।

    কার্বনের যোজ্যতার সম চতুস্তলকীয় মডেল এর প্রস্তাবনা
    বিজ্ঞানী ভ্যান্ট হফ ও লা-বেল 1874 খ্রিস্টাব্দে কার্বনের যোজ্যতা আর সমস্ত চতুস্তলকীয় মডেল এর প্রস্তাবনা করেন। এই মডেলে তারা বর্ণনা করেন যে, কার্বনের চারটি যোজ্যতা কখনো এক সমতলে অবস্থিত হতে পারে না। তাছাড়া এই মডেল অনুযায়ী দুটি কার্বন যোজ্যতার মধ্যবর্তী কোণের মান 109°28' ।

    জৈব যৌগ কে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয় যথাক্রমে সম্পৃক্ত জৈব যৌগ ও অসম্পৃক্ত জৈব যৌগ।

    সম্পৃক্ত জৈব যৌগ কাকে বলে

    যেসব জৈব যৌগের অনুর গঠনে পাশাপাশি থাকা সবগুলি কার্বন পরমাণু নিজেদের মধ্যে এক বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে তাদেরকে সম্পৃক্ত যৌগ বলে। সম্পৃক্ত জৈব যৌগের দুটি কার্বন পরমাণুর মধ্যে কখনোই দ্বিবন্ধন বা ত্রিবন্ধন থাকেনা। মিথেন (CH4) , প্রোপেন (C3H8) ,  ইথেন (C2H6) ইত্যাদি জৈব যৌগ গুলি সম্পৃক্ত জৈব যৌগের উদাহরণ।

    অসম্পৃক্ত জৈব যৌগ কাকে বলে

    যে সমস্ত জৈব যৌগের অণুতে অন্তত দুটি কার্বন পরমাণু কোনদি বন্ধন বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে তাদেরকে অসম্পৃক্ত যৌগ বলে। অসম্পৃক্ত জৈব যৌগে একই সঙ্গে দ্বিবন্ধন ও এক বন্ধন থাকতে পারে।
    ইথিলিন (C2H4),  অ্যাসিটিলিন (C2H2) অসম্পৃক্ত জৈব যৌগের উদাহরণ।

    হাইড্রোকার্বন কাকে বলে?

    নাম থেকেই বোঝা যায় যে হাইড্রোকার্বন নামের উৎপত্তি হাইড্রোজেন ও কার্বন থেকে। হাইড্রোজেন ও কার্বন পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত যে যৌগ অন্য কোন মৌল থাকবে না তাদেরকে হাইড্রোকার্বন বলে। যেহেতু হাইড্রোকার্বন গুলি আসলে জৈব যৌগ তাই হাইড্রোকার্বন গুলি দুই ভাগে বিভক্ত যথাক্রমে সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন ও অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন।
    সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলির রাসায়নিক স্বক্রিয়তা কম হয়।অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলির মধ্যে যে সমস্ত হাইড্রোকার্বনের দ্বিবন্ধন ও ত্রিবন্ধন থাকে তাদের যথাক্রমে অ্যালকিন ও অ্যালকাইন বলে। অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলি রাসায়নিকভাবে খুবই সক্রিয় হয়।

    কার্যকরী মূলক বা ফাংশনাল গ্রুপ বলতে কী বোঝায়?
    যেসব পরমাণু বা মূলক জৈব যৌগের অণুতে উপস্থিত থেকে তাদের ধর্ম বৈশিষ্ট্য প্রকৃতি প্রকৃতি নির্ধারণ করে তাদের কার্যকরী মূলক বা ক্রিয়াশীল মূলক বলে।

    নিচের ছকে কতগুলি যৌগ ও তাতে উপস্থিত কার্যকরী মূলক উল্লেখ করা হলো।


    যৌগের শ্রেণিকার্যকরী মূলকের নামকার্যকরী মূলকের সংকেত
    অ্যালকোহলহাইড্রোক্সিল-OH
    অ্যালডিহাইডঅ্যালডিহাইড-CHO
    কিটোনকিটো>C=O
    কার্বক্সিলিক অ্যাসিডকারবক্সিল-COOH
    অ্যামিনঅ্যামিনো-NH2
    ইথারইথার-O-

    সমাবয়বতা বা আইসোমারিজম কি

    জৈব যৌগ গুলির আণবিক সংকেত এক হলেও তাদের গঠন ও ধর্ম ভিন্ন হতে পারে। এই একই আণবিক সংকেত বিশিষ্ট কিন্তু ভিন্ন ধর্মের একাধিক যৌগ গঠনের ঘটনাকেই সমাবয়বতা বা আইসোমারিজম বলে।
    একই আণবিক সংকেত বিশিষ্ট সেই ভিন্নধর্মী যৌগ গুলিকে আইসোমার বা সমাবয়ব বলে।

    সমাবয়বতা সাধারনত দুই প্রকার যথাক্রমে অবস্থান ঘটিত সমবায় ও কার্যকরী মূলক ঘটিত সমবায়বতা।

    অবস্থান ঘটিত সমাবয়বতা ক ?ি

    একই কার্বন শৃংখল বিশিষ্ট এবং একই কার্যকরী মূলক বৈশিষ্ট্য একাধিক যৌগ থাকতে পারে। তবে সেই কার্যকরী মূলকের অবস্থান ভিন্ন হওয়ার জন্য দুটি ভিন্ন ধর্ম বিশিষ্ট যৌগ হিসাবে তারা আত্মপ্রকাশ করতে পারে।এই ধরনের সমাবয়বতা কে অবস্থান ঘটিত সমাবয়বতা বলে।
    যেমন n- প্রোফাইল ও আইসো প্রোপাইল।

    কার্যকরী মূলক ঘটিত সমবায়বতা কি

    একই আণবিক সংকেত বিশিষ্ট যোগে আলাদা আলাদা কার্যকরী মূলক উপস্থিত থাকার ফলে যে সমাবয়বতা সৃষ্টি হয় তাকে কার্যকরী মূলক ঘটিত সমাবয়বতা বলে।

    যেমন ডাইমিথাইল ইথার ও ইথাইল অ্যালকোহল এর আণবিক সংকেত একই কিন্তু এরা পরস্পর এর কার্যকরী মূলক ঘটিত সমাবয়বতা।


    সমগনীয় শ্রেণী কি ?

    যে সমস্ত জৈব যৌগ গুলি একই মৌল সমূহ দ্বারা গঠিত ,একই  সাধারণ সংকেত বিশিষ্ট, একই কার্যকরী মূলক যুক্ত ও একই ধর্ম বিশিষ্ট হয়, তাদেরকে ক্রমবর্ধমান আণবিক ভর অনুযায়ী সাজালে যে শ্রেণি পাওয়া যায় তাকে সমগনীয় শ্রেণী বলে।
    সমগনীয় শ্রেণীর পরপর দুটি যৌগের সংকেত এর পার্থক্য একটি কার্বন ও দুটি হাইড্রোজেনের অর্থাৎ CH2 এর।

    অ্যালকেন সমগনীয় শ্রেণীর সাধারণ সংকেত CnH2n+2
    অ্যালকিন সমগনীয় শ্রেণীর সাধারণ সংকেত CnH2n
    অ্যালকাইন সমগনীয় শ্রেণীর সাধারণ সংকেত CnH2n-2

    IUPAC নামকরণ পদ্ধতি

    ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ ইউর এন্ড অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি (IUPAC) হল একটি বিশেষ পদ্ধতি যাতে সরল হাইড্রোকার্বনের নামের দুটি অংশ থাকে। হাইড্রোকার্বনের অণুতে উপস্থিত কার্বনের সংখ্যা 1 থেকে 4 এর জন্য যথাক্রমে মিথ, ইথ,  প্রপ ও বিউট শব্দমূল ব্যবহার করা হয়।

    IUPAC নামকরণের পদ্ধতি ভালোভাবে ও বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

    মাধ্যমিক জৈব রসায়ন অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর

    1. দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত হয় এমন কয়েকটি জৈব যৌগের নাম লেখ।
    উত্তর: দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত হয় এমন কয়েকটি জৈব যৌগ হল ইউরিয়া ,ভিনিগার,  ন্যাপথলিন,  চিনি ইত্যাদি।

    2. জৈব রসায়ন কে কার্বনের রসায়ন বলা হয় কেন?
    উত্তর: সমস্ত জৈব যৌগ কার্বন ঘটিত অর্থাৎ প্রত্যেকটি জৈব যৌগের অণুতে অবশ্যই কার্বন পরমাণু থাকবেই। সেই কারণেই জৈব যৌগের রসায়ন কে কার্বনের রসায়ন বা কার্বন ঘটিত যৌগের রসায়ন বলা হয়।

    3. কে প্রমাণ করেন যে সমস্ত জৈব যৌগের মূল উপাদান কার্বন?
    উত্তর: বিজ্ঞানী ল্যাভয়সিয়ে সর্ব প্রথম প্রমাণ করেছিলেন যে সমস্ত জৈব যৌগের মূল উপাদান হলো কার্বন।

    4. জৈব যৌগগুলি সাধারণত জলে দ্রবীভূত হয় না কেন?
    উত্তর: সমস্ত জৈব যৌগ আসলে সমযোজী প্রকৃতির। তাই সাধারণত জৈব যৌগ গুলি আয়নিত হয় না।জল এবং অন্যান্য ধ্রুবীয় দ্রাবক এর অনুগুলির সাথে বেশিরভাগ জৈব যৌগ গুলির তড়িৎ আকর্ষণ বল সৃষ্টি হয় না। ফলে সাধারণত এরা জলে দ্রবীভূত হয় না।

    5. অ্যালকেনের অপর নাম কি?
    উত্তর: প্যারাফিন।

    6. একটিমাত্র পরমাণু দ্বারা গঠিত কার্যকরী মূলক হল ____।
    উত্তর: ইথার।

    7. অ্যালকেনের সাধারণ সংকেত কি ?
    উত্তর: CnH2n

    8. কৃত্তিম উপায়ে তৈরি প্রথম জৈব যৌগ কোনটি?
    উত্তর: ইউরিয়া।

    9. মিথেন অনুর জ্যামিতিক আকার কিরূপ?
    উত্তর: সমচতুস্তলকীয়।

    About the Author

    Teacher , Blogger, Edu-Video Creator, Web & Android App Developer, Work under Social Audit WB Govt.

    Post a Comment

    Please Comment , Your Comment is Very Important to Us.

    All Chapter Contents

    Cookie Consent
    We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
    Oops!
    It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
    AdBlock Detected!
    We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
    The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
    Site is Blocked
    Sorry! This site is not available in your country.