দশম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান জীবনের প্রবাহমানতা প্রশ্ন উত্তর | মিয়োসিস কে হ্রাস বিভাজন বলে কেন | কোশ বিভাজন । ক্রোমোজোম । জনন । বৃদ্ধি ও বিকাশ

দশম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান এর একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হল "জীবনের প্রবাহমানতা" । এই অধ্যায় এর নম্বর বিভাজন নীচে দেওয়া হল । 


জিবনের প্রবাহমানতা



অধ্যায়ের নাম বিভাগ -ক বিভাগ -খ বিভাগ-গ বীভাগ-ঘ মোট নম্বর মোট প্রশ্ন
জীবনের প্রবাহমানতা প্রতিটি প্রশ্নের মান 1 প্রতিটি প্রশ্নের মান 1 প্রতিটি প্রশ্নের মান 2 প্রতিটি প্রশ্নের মান 5 17 11
1×3=3 1×5=5 2×2=4 5×1=5

1. কোশ-বিভাজন কাকে বলে
উঃ যে প্রক্রিয়ায় জনিতৃ কোশ থেকে অপত্য কোশ সৃষ্টি হয় তাকে কোশ বিভাজন বলে।

2. কে, কবে, কোথায় প্রথম কোশ-বিভাজন পর্যবেক্ষণ করেন
উঃ বিজ্ঞানী ফ্লেমিং ১৮৮০ খ্রীষ্টাব্দে স্যালামাণ্ডারের দেহে প্রথম কোশ-বিভাজন পর্যবেক্ষণ করেন।

3. মাতৃকোশ বা জনিতৃ কোশ বলতে কী বোঝ।
উঃ কোশ-বিভাজন প্রক্রিয়া যে কোশপ্টি বিভাজিত হয় তাকে মাতৃকোশ বা জনিতৃ কোশ বলে।

4. অপত্য কোশ বলতে কী বোঝ।
উঃ কোশ-বিভাজন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন কোশকে অপত্য কোশ বলে।

5. কোশের প্রধান অংশ কটি ও কী কী?
উঃ কোশের প্রধান অংশ দুটি। যথা – সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস।

6. কোশ-বিভাজন কয়প্রকার ও কী কী?
উঃ কোশ-বিভাজন তিন প্রকার। যথা – অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস ও মায়োসিস।

7. কোশবিভাজনের কোন দশায় ক্রোমোজোমগুলি স্পষ্ট দেখা যায়?
উঃ কোশ-বিভাজনের মেটাফেজ দশায় ক্রোমোজোমগুলি স্পষ্ট দেখা যায়।

8. মাইটোসিস কোশ-বিভাজনের কোন দশায় ক্রোমোজোমগুলির বিভাজন মাকুর নিরক্ষীয়তলে সজ্জিত থাকে?
উঃ মেটাফেজ দশায়।

9. মানুষের দেহকোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা কত?
উঃ মানুষের দেহকোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা ২৩ জোড়া বা ৪৬টি। ৪৪টি অটোজোম ও ২টি সেক্সক্রোমোজোম।

10. মাইটোসিস কোশ-বিভাজনের কোন দশায় নিউক্লিয়াসের পুনরাবির্ভাবের ঘটনা ঘটে থাকে
উঃ টেলোফেজ দশায়।

11. মাইটোসিস বিভাজনের কোন দশায় ক্রোমোজোমগুলি দুটি ক্রোমাটিড যুক্ত হয়
উঃ প্রফেজ ও মেটাফেজ দশায়।

12. মাইটোসিস বিভাজনের কোন দশায় ক্রোমোজোমগুলি একটি ক্রোমাটিড যুক্ত হয়
উঃ অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ দশায়।

13. ক্রোমোজোমের কোন অংশে বেমতন্তু (Spindle fibre) সংযুক্ত থাকে
উঃ সেন্ট্রোমিয়ার অংশে।

14. একটি প্রাণীকোষে সেন্ট্রোজোম না থাকলে বিভাজনের ক্ষেত্রে কী ঘটবে
উঃ প্রাণীকোশে সেন্ট্রোজোম না থাকলে স্পিন্ডল গঠিত হবে না এবং যার ফলশ্রুতি ক্রোমোজোমের অসম বণ্টন কিংবা একাধিক নিউক্লিয়াসযুক্ত কোশগঠন।

15. বিভাজিত হতে পারে না এমন তিনটি প্রাণীকোশের নাম লেখ।
উঃ (১) নার্ভকোশ (Nerve cell) বা নিউরোন (Neuron), (২) পেশীকোশ (Muscle cell) ও (৩) রক্তকোশ (Blood cell)
16. জিন কোথায় অবস্থিত
উঃ জিন ক্রোমোজোমে অবস্থিত
17. মেটাফেজ দশায় ক্রোমোজোমের অবস্থান উল্লেখ করো
উঃ মেটাফেজ দশায় ক্রোমোজোম স্পিন্ডলের ইকুয়েটোরিয়াল প্লেনে বা নিরক্ষীয় তলে অবস্থান করে
18. স্টেমবডি কাকে বলে।

উঃ কোশ-বিভাজনের অ্যানাফেজ দশায় বেমের মাঝখানে যে সকল ইন্টারজোনাল তন্তু অবস্থান করে তাদের একত্রে স্টেমবডি বলে।

19. স্পাইরালাইজেশান বলতে কী বোঝ
উঃ ক্রোমোজোমের তন্তুগুলির পেঁচানোর পদ্ধতিকে স্পাইরালাইজেশান বলে।

20. ডি-স্পাইরালাইজেশান বলতে কী বোঝ
উঃ ক্রোমোজোমের তন্তুগুলির পাক খুলে যাওয়ার পদ্ধতিকে বলে ডি-স্পাইরালাইজেশান।

21. হাইড্রেশান ও ডি-হাইড্রেশান কাকে বলে
উঃ জল সংযোজন পদ্ধতিকে বলে হাইড্রেশান আর জল বিয়োজন প্রক্রিয়াকে বলে ডি-হাইড্রেশান।

22. DNA–এর সম্পূর্ণ নাম কী? কোশের এর অবস্থান কোথায়
উঃ DNA–এর সম্পূর্ণ নাম হল ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড। কোশে DNA–এর অবস্থান নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোমে।

23. বংশগতির ধারক ও বাহক কাকে বলে
উঃ জিনকে বংশগতির ধারক ও বাহক বলা হয়।

24. উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ প্রধানত কয় প্রকার কোশ দ্বারা গঠিত? কী কী
উঃ দুই প্রকার কোশ দ্বারা গঠিত। যথা – (১) সোমাটিক কোশ বা দেহ কোশ বা অঙ্গজ কোশ এবং (২) জনন কোশ বা জার্ম কোশ।

Tag: দশম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান জীবনের প্রবাহমানতা প্রশ্ন উত্তর

25. কোশ-বিভাজনের প্রয়োজনীয়তা বা তাৎপর্যগুলি উল্লেখ করো
উঃ কোশ বিভাজনের প্রয়োজনীয়তা বা তাৎপর্যগুলি হল

  • (১) কোশ-বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহের আকার ও আয়তনের বৃদ্ধি হয়ে থাকে
  • (২) এককোষী ভ্রূণাণু থেকে বহুকোশী জীবের সৃষ্টি কোশ-বিভাজনের মাধ্যমেই সম্ভব
  • (৩) অঙ্গজ-জনন কোশ বিভাজনেই হয়ে থাকে
  • (৪) অযৌন ও যৌন-জননে অর্থাৎ বংশবিস্তারে কোশ-বিভাজন অপরিহার্য
  • (৫) ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গাদি এবং ক্ষত পুনর্গঠনে কোশ-বিভাজন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করে।


26. ক্রোমোজোমের রাসায়নিক গঠন কী
উঃ প্রাথমিকভাবে ক্রোমোজোমে ৯০% DNA ও ক্ষারীয় প্রোটিন এবং ১০% RNA ও অম্লীয় প্রোটিন থাকে। Ca, Mg, Fe ইত্যাদি কয়েকটি ধাতব আয়ন থাকে। ক্রোমোজোম প্রধানত হিস্টোন এবং হিস্টোনবিহীন প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA ও RNA) দ্বারা গঠিত।

27. DNA-র গঠন কে কবে আবিষ্কার করেন
উঃ ১৯৫৩ খ্রীষ্টাব্দে বিখ্যাত দুই রসায়নবিদ জে. ডি. ওয়াটসন এবং এফ. এইচ. সি. ক্রিক DNA-এর গঠন সম্পর্কে প্রথম অবহিত করেন।

28. DNA–এর কটি উপাদান? কী কী
উঃ DNA-এর প্রধান উপাদান হল পাঁচটি কার্বন পরমাণুযুক্ত শর্করা, ফসফেট এবং একটি ক্ষারক (Base), যথা – অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, থাইমিন।

29. নিউক্লিওটাইড বলতে কী বোঝ
উঃ একটি ফসফেট, একটি শর্করা এবং একটি Base বা ক্ষারক সহযোগে গঠিত হয় DNA-এর এক একটি ইউনিট বা একক। এই এককগুলি নিউক্লিওটাইড (Nucleotide) নামে পরিচিত।

30. পলিনিউক্লিওটাইড কী
উঃ DNA-এর বৃহৎ অণু পরস্পরের সঙ্গে পাকানো (helical) দুটি সূক্ষ্ম সূত্রাকারে অবস্থান করে যা প্রকৃতপক্ষে অনেকগুলি নিউক্লিওটাইড-এর সমন্বয়। এই সূক্ষ্ম সূত্রগুলি পলিনিউক্লিওটাইড (Polynucleotide) নামে খ্যাত।

31. DNA বিহীন একটি কোশের উদাহরণ দাও
উঃ তামাক পাতার রোগসংক্রমণকারী ভাইরাস Tobacco mosaic virus-এ DNA নেই – কেবল RNA থাকে।

32. RNA–এর পুরো নাম কী
উঃ রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড।

33. RNA কয় প্রকার, কী কী
উঃ RNA প্রধানত তিন প্রকার। যথা

  • (১) পরিবাহক RNA (transfer RNA) বা t-RNA
  • (২) বার্তাবহ RNA (messenger RNA) বা m-RNA
  • (৩) রাইবোজোমাল RNA (ribosomal RNA) বা r-RNA।


34. জিন কাকে বলে
উঃ ক্রোমোজোমস্থিত অতি শক্তিশালী, স্ব-বিভাজনশীল, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা যায় এরূপ একটি উপাদান, যা বংশগতির ধারক ও বাহক, অর্থাৎ বংশগত গুনাবলী ও বৈশিষ্ট্য পরিবহনযোগ্য জৈব একককে জিন বলে।

35. জনন কথার অর্থ কী
উঃ বংশবিস্তার।

36. মিউটেশান (Mutation) কী
উঃ জিনগুলি সাধারণতঃ সুস্থায়ী এবং বংশ-পরম্পরায় নিজস্ব গুণাবলী বজায় রেখে থাকে; তবে অনেক সময় জিনের পরিবর্তন ঘটে, একে মিউটেশান বলে।

37. মিউট্যান্ট জিন (Mutant gene) কী
উঃ পরিবর্তিত জিনকে বলে মিউট্যান্ট জিন।

38. লিথ্যাল জিন (Lethal gene) বলতে কী বোঝ
উঃ ক্ষতিকারক মিউট্যান্ট জিনকে লিথ্যাল জিন বলে

39. জিনের মিউটেশানের সম্ভাব্য কারণগুলি কী
উঃ জিনের মিউটেশান রঞ্জনরশ্মি, গামারশ্মি, আলট্রা-ভায়োলেট রশ্মি দ্বারা ঘটে থাকে।

40. অ্যামাইটোসিস কাকে বলে
উঃ যে সরলতম প্রক্রিয়ায় কোনো জনিতৃ কোশ নিউক্লিও পর্দার অবলুপ্তি না ঘটিয়ে, ক্রোমোজোম ও বেমতন্তু গঠন ব্যতিরেকে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমে সরাসরি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোশ সৃষ্টি করে, তাকে অ্যামাইটোসিস বলে।

41. অ্যামাইটোসিস কোথায় দেখা যায়
উঃ ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, অ্যামিবা ইত্যাদি এককোশী জীবদেহে অ্যামাইটোসিস দেখা যায়।

42. অ্যামাইটোসিস কয় প্রকার ও কী কী
উঃ অ্যামাইটোসিস প্রক্রিয়াকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন

  • (১) কোরকোদ্গম বা মুকুলোদ্গম (Budding)
  • (২) অবাধ কোশগঠন (Free Cell Formation)।


43. অ্যামাইটোসিসের তাৎপর্যগুলি উল্লেখ কর
উঃ অ্যামাইটোসিসের তাৎপর্যগুলি হল

  • (১) ১৮৯২ খ্রীষ্টাব্দে স্ট্রাসবারজার (Strasburger) বলেন, অ্যামাইটোসিসই উন্নত পর্যায়ের কোশ-বিভাজন অর্থাৎ মাইটোসিস-এর সূত্রপাত
  • (২) বহুক্ষেত্রে ক্ষয়িষ্ণু জীবনীশক্তিসম্পন্ন কোশে অ্যামাইটোসিসই একমাত্র বাঁচার মাধ্যম
  • (৩) উন্নত শ্রেণির জীবের ক্ষেত্রে অ্যামাইটোসিস পদ্ধতিটি স্বভাবতই বিরল; কিন্তু তবুও কখনও কখনও অস্তিত্ত্ব বজায় রাখতে অ্যামাইটোসিস পদ্ধতিটিই অত্যন্ত কার্যকরী হয়ে থাকে।


44. মাইটোসিস বলতে কী বোঝ
উঃ যে জটিল ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় কোনো দেহ মাতৃকোশের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম একবার মাত্র বিভাজিত হয়ে সমআকৃতি, সমগুণ ও সমসংখ্যক ক্রোমোজোমসহ দুটি অপত্য কোশ সৃষ্টি করে তাকে মাইটোসিস বলে।

45. কে প্রথম মাইটোসিস কথাটি ব্যবহার করেন
উঃ ১৮৮০ (মতান্তরে ১৮৮২) খ্রীষ্টাব্দে বিখ্যাত জার্মান বৈজ্ঞানিক ওয়াল্টার ফ্লেমিং।

46. মাইটোসিস কোথায় দেখা যায়
উঃ মাইটোসিস কোশ বিভাজনের প্রধান স্থান হল উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহকোশ। বিশেষ করে
(১) উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঙ্গে, যেমন – কাণ্ড, ও মূলের অগ্রভাগে, বর্ধনশীল পাতায়, ভ্রূণমূল ও ভ্রূণমুকুলে
(২) দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের গৌণ বৃদ্ধির সময় মাণ্ড ও মূলের বিশেষ ধরণের ভাজক কলায়
(৩) উচ্চতর প্রাণীদের ভ্রূণের পরিস্ফূটনকালে এবং দেহের বৃদ্ধির সূচনা থেকে বার্ধক্যের পূর্ব পর্যন্ত
(৪) নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ও প্রাণীদের বৃদ্ধির সম এবং অঙ্গজ জনন ও অযৌন জননের সময়
47. মাইটোসিসের কয়টি দশা ও কী কী
উঃ চারটি দশা। প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ.

48. প্রফেজ কী
উঃ মাইটোসিসের যে দশায় ক্রোমাটিড কুণ্ডলাকৃতি ধারণ করে, নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয় পর্দার বিলুপ্তি ঘটে এবং স্পিনডল গঠিত হয়, তাকে প্রোফেজ বলে.

49. মেটাফেজ কী
উঃ মাইটোসিস বিভাজনের যে পর্যায়ে ক্রোমাজোমগুলো নিরক্ষীয় তলে বিন্যস্ত হয়ে থাকে, সেই পর্যায় বা দশাকে মেটাফেজ বলে.

50. অ্যানাফেজ কাকে বলে
উঃ মাইটোসিস বিভাজনের যে দশায় অপত্য ক্রোমাজোম অর্থাৎ ক্রোমাটিড নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে মেরুতে উপস্থিত হয়, তাকে অ্যানাফেজ বলে.

51. টেলোফেজ কাকে বলে
উঃ মাইটোসিস বিভাজনের যে দশায় অপত্য নিউক্লিয়াস সংঘটিত হয়ে থাকে, অর্থাৎ একটি মাতৃ-নিউক্লিয়াস থেকে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস গঠিত হয়, তাকে টেলোফেজ বলে.

52. বেমতন্তু কী
উঃ সেন্ট্রিওল দুটি যখন পরস্পর থেকে বিপরীত অঞ্চলে স্থানান্তরিত হতে থাকে তখন তাদের মাঝখানে একপ্রকার তন্তুর আবির্ভাব ঘটে, তাদেরকে স্পিনডল ফাইবার বা বেমতন্তু বলে.

53. অ্যাসট্রাল রশ্মি কী
উঃ সেন্ট্রিওলদ্বয়ের চারপাশে অবস্থিত স্বল্প দৈর্ঘ্যের বিচ্ছুরিত রশ্মিগুলিকে অ্যাসট্রাল রশ্মি বলে.

54. অ্যাস্‌টার কী
উঃ অ্যাস্‌ট্রাল রশ্মিসহ সেন্ট্রিওলকে বলে অ্যাস্‌টার.

55. কন্টিনিউয়াস ফাইবার বা অবিচ্ছেদ্য তন্তু কী
উঃ মেটাফেজ দশায় ক্রোমোজোমগুলি স্পিনডল বা বেমযন্ত্রের নিরক্ষীয় অঞ্চলে অবস্থান করে। স্পিনডল দুই প্রকারের তন্তু সহযোগে গঠিত। এদের মধ্যে একটিকে বলে কন্টিনিউয়াস ফাইবার বা অবিচ্ছেদ্য তন্তু.

56. ক্রোমোজোমাল ফাইবার বা ক্রোমোজমীয় তন্তু কী
উঃ মেটাফেজ দশায় ক্রোমোজোমগুলি স্পিনডল বা বেমযন্ত্রের নিরক্ষীয় অঞ্চলে অবস্থান করে। স্পিনডল দুই প্রকারের তন্তু সহযোগে গঠিত। এদের মধ্যে একটিকে বলে কন্টিনিউয়াস ফাইবার বা অবিচ্ছেদ্য তন্তু। অপরটিকে বলে ক্রোমোজোমাল ফাইবার বা ক্রোমোজমীয় তন্তু.

57. নিরক্ষীয় প্লেট বলতে কী বোঝ
উঃ ক্রোমাজোমের সেন্ট্রোমিয়ার ও সেন্ট্রোজোমের বিকর্ষণের ফলশ্রুতিতে ক্রোমাজোমগুলি স্পিনডলে আড়াআড়িভাবে যে মধ্যরেখায় সজ্জিত হয়ে থাকে তাকে ইক্যুয়েটোরিয়াল প্লেট বা নিরক্ষীয় প্লেট বা মেটাফেজ প্লেট বলে.

58. অপত্য ক্রোমোজোম বলতে কী বোঝ
উঃ অ্যানাফেজ দশায় প্রতিটি ক্রোমোজোম থেকে উৎপন্ন ক্রোমাটিড দুটি বেমযন্ত্রের দুই বিপরীত মেরুর দিকে চলতে শুরু করে। উৎপন্ন ক্রোমাটিডগুলিকে অপত্য ক্রোমাজোম বলে.

59. ইন্টারফেজ দশার বৈশিষ্টগুলি উল্লেখ করো
উঃ

  •  ১। ইন্টারফেজ দশায় কোশের আয়তন সর্বাধিক বৃদ্ধি পেয়ে থাকে
  • ২। নিউক্লীয় আবরণী যথাযথ অর্থাৎ অক্ষত থাকে
  • ৩। বিভাজনকালে প্রয়োজনীয় শক্তি ইণ্টারফেজ দশায় সঞ্চিত হয়ে থাকে
  • ৪। নিউক্লিয়াসটি অপেক্ষাকৃত স্পষ্ট ও বড় হয়ে থাকে
  • ৫। সংশ্লেষের ফলে ক্রোমাজোমে DNA এর পরিমাণ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে
  • ৬। অস্পষ্ট লম্বালম্বা ক্রোমাটিন সূত্র নিউক্লিওপ্লাজমে মিশে থাকে
  • ৭। ক্রোমাসেণ্টার স্পষ্টতর হয়ে থাকে
  • ৮। প্রাণিকোষের সেন্ট্রোজোমে দুটি সেন্ট্রিওল স্পষ্টতর হয়ে থাকে.


60. সাইটোকাইনেসিস বলতে কী বোঝ?
উঃ উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষে এক বিশেষ পদ্ধতিতে সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস বলে.

61. সেল-প্লেট (Cell-plate) কী?
উঃ টেলোফেজ দশার অন্তিম সময়ে নিরক্ষীয় অঞ্চলে ফ্রাগমোপ্লাস্ট নানা প্রকার কোষ-প্রাকার উপাদান সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিন্দু আকারে জমা থাকার ফলে যে পাতের মত অংশ গঠিত হয় তাকে সেল প্লেট বা কোষভাগপ্রাকার বলে.

62. মাইটোসিসের বৈশিষ্ট্য বা প্রয়োজনীয়তাগুলি উল্লেখ করো
উঃ
  • ১। মাইটোসিস একটি সদৃশ বিভাজন, কারণ উৎপন্ন অপত্য নিউক্লিয়াস দুটি মাতৃ নিউক্লিয়াস এর মত হুবহু সমপরিমাণ, সমআকৃতি ও সমগুণসম্পন্ন
  • ২। উৎপন্ন অপত্য নিউক্লিয়াস এবং ক্রোমোজোমের সংখ্যা এবং উপাদান মাতৃ-নিউক্লিয়াসের সমান
  • ৩। ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলিও সমান দুভাগে বিভক্ত হয় ফলে পিতা মাতার দোষ-গুণ বৈশিষ্ট্য সমানভাবে এবং সম্যকরূপে সন্তান-সন্ততির উপর বর্তায়
  • ৪। মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন উদ্ভিদ এবং প্রাণিদেহে প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াসে সমান গুণসম্পন্ন ও সমান-সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে
  • ৫। মাইটোসিস বহুকোষী উদ্ভিদ এবং প্রাণীর দৈর্ঘ্য ও আয়তন বৃদ্ধি অর্থাৎ দেহের বৃদ্ধি ও পরিস্ফুটনের জন্য একান্ত অপরিহার্য
  • ৬। জীবদেহের ক্ষতস্থান পুনর্গঠিত হয় মাইটোসিসের মাধ্যমে.


63. মাইটোসিসকে সদৃশ বিভাজন বা সমবিভাজন বা Equational Division বলার কারণ কী
উঃ মাইটোসিস কোশ বিভাজনের সময় একটি মাতৃকোশ থেকে সমআকৃতি, সমগুণসম্পন্ন এবং সমসংখ্যক ক্রোমোজোমবিশিষ্ট দুটি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়, তাই মাইটোসিসকে সদৃশ বিভাজন বা সমবিভাজন বা Equational Division বলে.

64. মায়োসিস (Meiosis) বলতে কী বোঝ
উঃ যে বিশেষ ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় যৌনজননক্ষম উদ্ভিদ ও প্রাণীর জনন মাতৃকোষে পরপর দুবার নিউক্লিয়াসের বিভক্তির ফলে প্রত্যেকটিতে মাতৃ-কোষের অর্ধসংখ্যক ক্রোমোজোমসহ চারটি পৃথক অপত্য জননকোষ বা গ্যামেটের সৃষ্টি হয়ে থাকে তাকে মায়োসিস বা রিডাকশান ডিভিশান বলে.

65. কে প্রথম মায়োসিস পর্যবেক্ষণ করেন
উঃ সপুষ্পক উদ্ভিদের জননকোষে ১৮৮৮ খ্রীষ্টাব্দে স্ট্রাসবার্জার মায়োসিস প্রত্যক্ষ করেন.

66. মায়োসিস কোথায় দেখা যায়
উঃ অনুন্নত জীবের ক্ষেত্রে জাইগোট বা ভ্রূণাণুতে এবং উন্নত প্রাণীর শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ের প্রাইমারি স্পার্মাটোসাইট ও প্রাইমারি ঊসাইট কোষে মায়োসিস বিভাজন হয়.

67. মায়োসিসের বিশেষত্বগুলি উল্লেখ করো
উঃ

  • ১। মাতৃ-নিউক্লিয়াসের তুলনায় অপত্য নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোমের সংখ্যা অর্ধেক
  • ২। দুবার নিউক্লিয়াসের বিভাজন মায়োসিস প্রক্রিয়ার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য
  • ৩। মায়োসিস প্রক্রিয়ার ফলে পরবর্তী বংশধরের দেহে ক্রোমোজোমের সংখ্যা দ্বিগুণ না হয়ে নির্দিষ্ট থাকে
  • ৪। এই প্রক্রিয়ায় ক্রসিং–ওভারের সময় বাইভ্যালেণ্ট দুটি ক্রোমোজোমের মধ্যে ক্রোমাটিড খণ্ডের আদান-প্রদান ঘটে থাকে। এর ফলে জিনের বিন্যাসের পরিবর্তন ঘটে; এবং একে বলে জিনের রিকম্বিনেশান বা জিনের চরিত্রগত গুণের পুনর্বিন্যাস.


68. জিনের রিকম্বিনেশান বলতে কী বোঝ
উঃ মায়োসিস প্রক্রিয়ায় ক্রসিং–ওভারের সময় বাইভ্যালেণ্ট দুটি ক্রোমোজোমের মধ্যে ক্রোমাটিড খণ্ডের আদান-প্রদান ঘটে থাকে। এর ফলে জিনের বিন্যাসের পরিবর্তন ঘটে; এবং একে বলে জিনের রিকম্বিনেশান বা জিনের চরিত্রগত গুণের পুনর্বিন্যাস.

69. সাইন্যাপসিস কী?
উঃ মায়োসিসের প্রোফেজ দশায় সমআকৃতি-বিশিষ্ট ক্রোমোজোমগুলি পরস্পর কাছাকাছি হয় এবং পাশাপাশি জোড় বাঁধে – এই জোড় বাঁধাকে সাইন্যাপসিস বলে.

70. বাইভ্যালেণ্ট কী
উঃ মায়োসিসের প্রোফেজ দশায় সমআকৃতি-বিশিষ্ট ক্রোমোজোমগুলি পরস্পর কাছাকাছি হয় এবং পাশাপাশি জোড় বাঁধে। পাশাপাশি বিন্যস্ত জোড়া জোড়া ক্রোমজোমকে বাইভ্যালেণ্ট বলে.

 71. সমসংস্থ ক্রোমোজোম কী
উঃ আকৃতি, জিন সজ্জারীতি, সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে পিতৃ ও মাতৃ ক্রোমোজোমদ্বয়কে সমসংস্থ বা Homologous chromosome বলে।

72. সিস্টার ক্রোমাটিড কী?
উঃ বাইভ্যালেন্টে অবস্থিত সমসংস্থ ক্রোমোজোম জোড়ের প্রতিটি ক্রোমোজোম থেকে সৃষ্ট ক্রোমাটিড দুটিকে সিস্টার ক্রোমাটিড বলে।

73. নন-সিস্টার ক্রোমাটিড বলতে কী বোঝ
উঃ বাইভ্যালেন্টে অবস্থিত দুটি ভিন্ন সমসংস্থ ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিডগুলিকে নন-সিস্টার ক্রোমাটিড বলে।

74. কায়াজমা কী?
উঃ যে বিন্দুতে ক্রোমাটিডগুলি X চিহ্ন গঠন করে পরস্পরকে অতিক্রম করে তাকে কায়াজমা বলে
75. ক্রসিংওভার কাকে বলে।

উঃ সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নন-সিস্টার ক্রোমাটিডদ্বয়ের মধ্যে খণ্ডাংশের বিনিময়কে ক্রসিং ওভার বলে
76. মায়োসিস কে হ্রাস-বিভাজন বা রিডাকশনাল বিভাজন বলে কেন ? অথবা, মিয়োসিস কে হ্রাস বিভাজন বলে কেন ?
উঃ উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় ক্ষেত্রেই পুং এবং স্ত্রী গ্যামেটের নিউক্লিয়াস মিলিত হলে ক্রোমোজোমের সংখ্যা দ্বিগুণ না হয়ে অপত্য কোষগুলিতে জন্মদাতা কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। তাই মিয়োসিস কে হ্রাস বিভাজন বা হ্রাস বিভাজন বলে। ১৮৮৭ খ্রীষ্টাব্দে ভাইজম্যান প্রমাণ করেন উদ্ভিদ এবং প্রাণীর যে জনন-মাতৃকোষ থেকে পুং ও স্ত্রী গ্যামেট উৎপন্ন হয়, সেই জনন-মাতৃকোষেই হ্রাস-বিভাজন সম্পন্ন হয়।

77. বৃদ্ধি বলতে কী বোঝ
উঃ যে প্রক্রিয়ায় কতকগুলি শর্তের উপস্থিতিতে প্রোটোপ্লাজমের নিয়ন্ত্রণে উদ্ভিদ ও প্রাণী, তথা জীবদেহের আকার, আয়তন ও শুষ্ক ওজনের অপরিবর্তনী চিরস্থায়ী পরিবর্তন হ, তাকে বৃদ্ধি বলে

78. জীবদেহে ওজন কয় প্রকার ও কী কী
উঃ দুই প্রকার। সরস বৃদ্ধি ও শুষ্ক বৃদ্ধি

79. সরস ওজন বলতে কী বোঝ
উঃ সদ্যমৃত কিংবা জীবিত জীবদেহের ওজনকে সরস ওজন বলে

80. শুষ্ক ওজন বলতে কী বোঝ
উঃ সদ্যমৃত কিংবা জীবিত জীবদেহকে ৭৫ ডিগ্রি সেণ্ট্রিগ্রেট উষ্ণতায় ২৪ ঘণ্টা রাখলে এর ৬০-৭০ ভাগ ওজন কমে যায় এবং ঐ অবস্থায় জীবদেহের ওজনকেই শুষ্ক ওজন বলে।

81. জীবকোশের বৃদ্ধি কী কী উপায়ে সংঘটিত হয়
উঃ তিন প্রকারে জীব কোষ বৃদ্ধি পেতে পারে

  • ১। কোষ-বিভাজনের সাহায্যে
  • ২। কোষের আয়তন-বৃদ্ধির ফলে
  • ৩। কোষের অভ্যন্তরে ও বাইরে নানাপ্রকার পদার্থ-সঞ্চয়ের মাধ্যমে।


82. বহুকোষী জীবে বৃদ্ধির কয়টি পর্যায় ও কী কী
উঃ তিনটি পর্যায়

  • ১। ফরমেটিভ ফেজ বা কোষ বিভাজন দশা
  • ২। ফেজ অব ইলংগেশান বা দীর্ঘকরণ দশা
  • ৩। ফেজ অব ডিফারেনসিয়েশান এণ্ড ম্যাচুরেশান বা প্রস্ফুটন বা পরিণতির দশা।


83. প্রকৃতিগতভাবে বৃদ্ধি কয় প্রকার ও কী কী
উঃ তিন প্রকার

  • ১। দৈহিক বৃদ্ধি
  • ২। জননগত বৃদ্ধি
  • ৩। ক্ষয়পূরণজাত বৃদ্ধি


84. মুখ্য বৃদ্ধিকাল বলতে কী বোঝ
উঃ কোষ, কলা, অঙ্গ কিংবা সমগ্র দেহে প্রাথমিক অবস্থায় বৃদ্ধি হয় ধীরগতিতে, তার পর অত্যন্ত দ্রুত ও পরে মন্থর গতিতে এবং অবশেষে বৃদ্ধি একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। উদ্ভিদ বা প্রাণীর কোষ, কলা, অঙ্গ কিংবা সমগ্র দেহের বৃদ্ধির শুরু থেকে আরম্ভ করে শেষ পর্যন্ত সময়কালকে বিজ্ঞানী স্যাকস এর মতে গ্র্যাণ্ড পিরিয়ড অব গ্রোথ বা মুখ্য বৃদ্ধিকাল বলে।

85. অধিকাংশ একবীজপত্রী উদ্ভিদের গৌণ বৃদ্ধি না হওয়ার কারণ কী
উঃ ক্যাম্বিয়াম থাকে না বলে অধিকাংশ উদ্ভিদের গৌণ বৃদ্ধি হয় না।

86. বর্ষবলয় বলতে কী বোঝ
উঃ বহুবর্ষজীবী কাষ্ঠল দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডে জাইলেম অর্থাৎ কাষ্ঠিক উপাদানে গঠিত যে কতকগুলি এককেন্দ্রীয় বলয়াকৃতি স্তর দেখা যায় তাদের বৃদ্ধি বলয় বা বর্ষবলয় বলে।

87. পরিস্ফুটন বলতে কী বোঝ
উঃ কোষ-বিভাজন, কোষের আয়তন-বৃদ্ধি,ও কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী কোষের নানাবিধ পরিবর্তন; প্রাণীর বৃদ্ধির এই তিনটি পর্যায়কে একত্রে পরিস্ফুটন বলে।

88. প্রাণীদের পরিস্ফুটনের কটি পর্যায় ও কী কী
উঃ দুটি পর্যায়

  • ১। এমব্রাওনিক ডেভেলপমেণ্ট বা ভ্রূণের পরিস্ফুটন
  • ২। পোস্ট এমব্রাওনিক ডেভেলপমেণ্ট বা ভ্রূণোত্তর পরিস্ফুটন


89. ভ্রুণের পরিস্ফুটন বলতে কী বোঝ।
উঃ যে পরিস্ফুটনে নিষিক্ত ডিম্বাণু বা জাইগোট, দেহকোষ-বিভাজন মা মাইটোসিস পদ্ধতিতে বারবার বিভাজিত হয়ে মরুলা, তারপর ব্লাস্টুলা, এরপর গ্যাস্টুলা ও তারপর এম্‌ব্রায়ো বা ভ্রূণ সৃষ্টি করে, তাকে এমব্রাওনিক ডেভেলপমেণ্ট বা ভ্রূণের পরিস্ফুটন।

90. প্রত্যক্ষ পরিস্ফুটন কী?
উঃ যে পরিস্ফুটনে আকৃতিতে ছোট হলেও অবিকল পূর্ণাঙ্গরূপ পরিগ্রহ করে সরাসরি ভ্রূণ থেকে নির্গত হয়, তাকে ডাইরেক্ট ডেভেলপমেণ্ট বা প্রত্যক্ষ পরিস্ফুটন বলে।

91. পরোক্ষ পরিস্ফুটন কী ?
উঃ যে পরিস্ফুটনে ভ্রূণ লার্ভার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমিক অস্বাভাবিক পরিবর্তনের দ্বারা পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে পরিণত হয়, তাকে ইনডাইরেক্ট ডেভেলপমেণ্ট বা পরোক্ষ পরিস্ফুটন বলে

92. মেটামরফোসিস কী ?
উঃ ব্যাঙ, মশা, প্রজাপতি প্রভৃতিতে পরোক্ষ পরিস্ফুটনে দেখতে পাওয়া যায়। এই পরিবর্তন রূপান্তর মেটামরফোসিস নামেও পরিচিত।

93. মানবদেহের বৃদ্ধিকে কটি পর্যায়ে ভাগ করা যায় কী কী
উঃ পাঁচটি পর্যায়

  • প্রথম পর্যায়ঃ মাতৃগর্ভে ২৮০ দিন ধরে যে বৃদ্ধি ঘটে
  • দ্বিতীয় পর্যায়ঃ শিশু ভূমিষ্ট হবার পর থেকে ১০ মাস পর্যন্ত
  • তৃতীয় পর্যায়ঃ ১০ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত অর্থাৎ শৈশব অবস্থা
  • চতুর্থ পর্যায়ঃ ৫ বছর থেকে ১৩ - ১৪ বছর পর্যন্ত অর্থাৎ কৈশোর অবস্থা
  • পঞ্চম পর্যায়ঃ ১৩ – ১৪ বছর থেকে ২০ – ২২ বছর পর্যন্ত অর্থাৎ যৌবন অবস্থা।


94. উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৃদ্ধির শর্ত বা উপাদানগুলি কী কী
উঃ খাদ্য, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, জল, আলো, উষ্ণতা বা তাপমাত্রা, হর্মোন ইত্যাদি।

95. উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে অক্সিন, জিব্বারেল্লিন, সাইটোকাইনিন প্রভৃতি হরমোনগুলির ভূমিকা কী
উঃ কোষের আয়তন-বৃদ্ধি, অগ্রমুকুল ও পুষ্প মুকুলের বৃদ্ধি এবং ডিম্বাশয়ের ফলে পরিণত হওয়া ।
প্রভৃতি অক্সিনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। বীজের অঙ্কুরোদগমে জিব্বারেলিনের অনবদ্য ভূমিকা। সাইটোকাইনিন কোষ-বিভাজনে সাহায্য করে।

96. জনন কাকে বলে ?
উঃ যে প্রক্রিয়ায় সজীব বস্তু পৃথিবীতে নিজ বংশধর সৃষ্টি করে প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষা এবং সংখ্যা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্য সাধনে সক্ষম হয়ে জীবনের ধারা অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে, তাকেই জনন বলে।

97. জনিতৃ জীব ও অপত্য জীব বলতে কী বোঝ
উঃ জননে সৃষ্ট জীবকে অপত্য জীব এবং যে জীবের দেহের অংশ থেকে অপত্য জীব সৃষ্টি হয়ে থাকে, তাকে জনিতৃ জীব বলে।

98. জননের প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্বগুলি উল্লেখ করো
উঃ

  • ১। জননের প্রধান উদ্দেশ্য এবং প্রয়োজনীয়তা প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষা করা। স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল অতিক্রমের পর জীবের মৃত্যু হয়। অত্যন্ত সঙ্গত কারণেই জীবিত অবস্থায় অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষার ব্যবস্থা করতে হয়। অন্যথায় জীবের বংশধারা অবলুপ্ত হয়ে যাবে। তাই জীব তার মৃত্যুর পূর্বে জন-ক্রিয়ার মাধ্যমে সমগুণসম্পন্ন জীব সৃষ্টি করে প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষা করে
  • ২। বংশবিস্তার বা সংখ্যাবৃদ্ধিঃ জননের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হল সন্তান-সন্ততির সংখ্যাবৃদ্ধি অর্থাৎ বংশবিস্তার
  • ৩। পৃথিবীকে জীবশূন্যতা থেকে রক্ষা করা জনন-প্রক্রিয়ার একটি মুখ্য উদ্দেশ্য
  • ৪। পরিবেশ থেকে অধিক পরিমাণে বস্তু গ্রহণ করে ঐ পরিমাণ বস্তু পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন জনন বা রিপ্রোডাকশন
  • ৫। পৃথিবীতে জীবজগতের ভারসাম্য রক্ষিত হয় জননের দ্বারা
  • ৬। অযৌন জননে জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য রক্ষিত হয়। বিভিন্নপ্রকার উদ্ভিদ এবং সরলদেহী নিম্নশ্রেণীর প্রাণীর অযৌন জননে উৎপন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীগণ জনিতৃ ও প্রাণীদের মত সমগুণসম্পন্ন হয়ে থাকে
  • ৭। যৌন-জনন জীবের বংশধারাকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়ক এক অমোঘ পন্থা
  • ৮। যৌন-জননে অপত্য জীবে নতুন চরিত্রের আবির্ভাব ঘটে
  • ৯। যৌন-জননের মাধ্যমে অপত্য জীবে নানাবিধ বৈশিষ্ট্যের সমাবেশের ফলশ্রুতিই প্রজননিক প্রকরণের সৃষ্টি করে
  • ১০। যৌন-জননে জীবদেহে মিউটেশান বা পরিব্যক্তি ঘটে এবং ইহা অভিব্যক্তি বা বিবর্তনের সহায়ক।


99. জনন কয় প্রকার ও কী কী
উঃ চারপ্রকার

  • ১। অঙ্গজ জনন
  • ২। অযৌন জনন
  • ৩। যৌন জনন
  • ৪। অপুংজনি 100. উদ্ভিজ্জ জনন কয় প্রকার ও কী কী
  • উঃ তিন প্রকার
  • ১। অঙ্গজ জনন
  • ২। অযৌন জনন
  • ৩। যৌন জনন।


101. অঙ্গজ জনন কাকে বলে
উঃ যে প্রকার জনন পদ্ধতিতে জীবদেহের কোন অংশ বা অংশাংশ বা অঙ্গ বা অঙ্গাংশ মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোষ-বিভাজন ও বৃদ্ধির মাধ্যমে উপযুক্ত পরিবেশ সদৃশ অপত্য জীবের সৃষ্টি করে, সেই প্রকার জননকে অঙ্গজ জনন বলে।

102. অঙ্গজ জনন কয় প্রকার ও কী কী
উঃ দুই প্রকার। স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং কৃত্রিম অঙ্গজ জনন।

103. স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন কয় প্রকার ও কী কী

  • উঃ আট প্রকার
    • ১। বাডিং বা কোরকোদগম
    • ২। ফ্রাগমেণ্টেশান বা খণ্ডীভবন
    • ৩। বুলবিল দ্বারা
    • ৪। ফিশান বা বিভাজন পদ্ধতি
    • ৫। অস্থানিক মুকুলের সাহায্যে
    • ৬। পরিবর্তিত কাণ্ড দ্বারা
    • ৭। মূলের সাহায্যে
    • ৮। পাতার দ্বারা


104. কৃত্রিম অঙ্গজ জনন কয় প্রকার ও কী কী

  • উঃ চার প্রকার
    • ১। শাখা কলম
    • ২। দাবাকলম
    • ৩। গুটি কলম
    • ৪। জোড়কলম।


105. জোড়কমল কী
উঃ কৃত্রিম পদ্ধতিতে অঙ্গজ-জননের একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য পদ্ধতি হল জোড়কলম। প্রধানতঃ প্রজাতির উচ্চ গুণমাণ বর্ধিত ও বজায় রাখার জন্য জোড়াকলমের প্রচলন ক্রমবর্ধমান। জোড়াকলম পদ্ধতিতে দুটি জনিতৃ উদ্ভিদের প্রয়োজন হয়। এই পদ্ধতিতে অভীষ্ট উন্নতমানের উদ্ভিদের কাণ্ডের কিছু অংশ কিংবা মুকুল বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অন্য একটি উদ্ভিদ অর্থাৎ দ্বিতীয় জনিতৃ উদ্ভিদের কাণ্ডে জুড়ে দেওয়া হয়।

106. সিয়ন (Scion) কী?
উঃ জোড়াকলম পদ্ধতিতে যে গাছের অংশটি জোড়া বা লাগানো হয় তাকে সিয়নবা পরশাখী বলে
107. স্টক (Stock) কী?
উঃ জোড়াকলম পদ্ধতিতে যার উপর গাছের অংশটি লাগানো বা জোড়া হয় তাকে স্টক বলে।

108. কয়েকপ্রকার জোড়কলমের উল্লেখ করো।
উঃ মুকুল জোড়কলম, মুকুট জোড়কলম, জিহ্বা জোড়কলম, কীলক জোড়কলম ইত্যাদি।

109. কৃত্রিম অঙ্গজ জননের তাৎপর্যগুলি উল্লেখ করো
উঃ

  • ১। নির্দিষ্ট দোষ-গুণ-বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে কৃত্রিম অঙ্গজ-জনন উল্লেখযোগ্যভাবে সাহায্য করে অর্থাৎ কৃত্রিম অঙ্গজ-জননে নির্দিষ্ট গুণসম্পন্ন ফুল ও ফলের গাছ বংশানুক্রমে পাওয়া যায়
  • ২। বীজবিহীন কলা, আনারস, আঙ্গুর ইত্যাদি ফলের গাছ ও জবা, গোলাপ প্রভৃতি ফুলের গাছে কৃত্রিম উপায়ে অঙ্গজ-জননে অপত্য উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়
  • ৩। আদা, হলুদ, গোল আলু প্রভৃতি উদ্ভিদে কৃত্রিম উপায়ে অঙ্গজ-জননের সাহায্যে অপত্য সৃষ্টি হয়
  • ৪। আম, পেয়ারা প্রভৃতি উদ্ভিদে কৃত্রিম অঙ্গজ-জননে কলমের সাহায্যে উৎপন্ন উদ্ভিদে দু-এক বছরের মধ্যেই ফল ধারণ করে
  • ৫। অল্পায়াসেই কৃত্রিম অঙ্গজ-জননে অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি করা সম্ভব
  • ৬। সম্ভাব্য ঝুঁকি কৃত্রিম অঙ্গজ-জননে নেই বললেই চলে।


110. অঙ্গজ-জননের সুবিধাগুলি উল্লেখ করো
উঃ

  • ১। জনিতৃ ও অপত্য উদ্ভিদ সমবৈশিষ্ট্যযুক্ত হয়ে থাকে
  • ২। অঙ্গজ জননে একজাতীয় বহু সংখ্যক উচ্চমানের উদ্ভিদ সৃষ্টি করা সম্ভব
  • ৩। বিশুদ্ধ গুণাবলীর ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকে
  • ৪। যে সকল উদ্ভিদের ফুল ও ফল হয় না, তাদের বংশবিস্তারের একমাত্র মাধ্যম অঙ্গজ জনন
  • ৫। অঙ্গজ-জননে উৎপন্ন উদ্ভিদে অল্প সময়ে ফুল ও ফল জন্মায়
  • ৬। অনুকূল পরিবেশে অঙ্গজ-জনন একটি অতি সরল পদ্ধতি।


111. অঙ্গজ-জননের অসুবিধাগুলি উল্লেখ করো
উঃ

  • ১। অঙ্গজ-জননের প্রধান অসুবিধে হল নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত এবং উন্নত উদ্ভিদ জন্মায় না
  • ২। উৎপন্ন উদ্ভিদগুলির অভিযোজন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় প্রতিকূল ও নতুন পরিবেশে অভিযোজনে অসমর্থ হয়ে পড়ে; ফলে প্রজাতির অবলুপ্তির প্রবল সম্ভাবনা দেখা যায়
  • ৩। অঙ্গজ-জননে স্বল্প স্থানে অসংখ্য উদ্ভিদের জন্ম হওয়ার ফলে আলো, বাতাস ও খাদ্যের জন্য সংগ্রামে অধিকাংশ উদ্ভিদই দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অকালে মৃত্যুবরণ করে।


112. অযৌন জনন বলতে কী বোঝ।
উঃ যে বিশেষ ধরণের জনন প্রক্রিয়ায় দুটি ভিন্নধর্মী জননকোষ বা গ্যামেটের মিলনবিহনে দেহকোষবিভাজিত হয় কিংবা রেণু বা স্পোরের সাহায্যে অপত্য জীব সৃষ্টি হয় তাকে অযৌন-জনন বলে।

113. অযৌন জননের অপর নাম কী
উঃ অযৌন-জননে দেহকোষ বিভাজিত হয়ে অপত্য কোষ সৃষ্টি হয় বলে এই প্রক্রিয়ায় সোমাটোজেনিক বা ব্লাস্টোজেনিক জনন নামেও পরিচিত।

114. অযৌন জনন কোথায় দেখা যায়
উঃ অধিকাংশ জীবাণু, ইউডোগোনিয়াম, ইউলোথ্রিক্স প্রভৃতি শৈবালে, মিউকর, পেনিসিলিয়াম প্রভৃতি ছত্রাকে এবং অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম, ইউগ্লিনা প্রভৃতি বহু এককোষী প্রাণিতে অযোন-জনন দেখা যায়।

115. অযৌন জননের উপায়গুলি কী কী
উঃ বিভাজন ও রেণুর সাহায্যে।

116. চলরেণু বা Zoospore কী
উঃ যে সকল রেণু স্থান থেকে স্থানান্তরে সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে চলতে পারে তাদের চলরেণু বলে।

117. অচলরেণু বা Aplanospore কী
উঃ যে সকল রেণু স্থান থেকে স্থানান্তরে চলতে পারে না এবং যাদের সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলা নেই তাদের অচলরেণু বলে।

118. কোনিডিয়াম কী
উঃ অচল রেণুর দ্বারা নস্টক নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে। স্থলজ ছত্রাকের জননেও এর বিশিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। ছত্রাকের এই ধরণের রেণুকে বলে কোনিডিয়াম।

119. হোমোস্পোর ও হেটোরোস্পোর বলতে কী বোঝ
উঃ রেণুস্থলী বা স্পোরাঞ্জিয়ামে উৎপন্ন রেণু বা স্পোরগুলি যদি একই রকমের হয় তবে তাদের হোমোস্পোর বা সমরেণু এবং ভিন্ন রকমের হলে তাদের হেটারোস্পোর বা অসমরেণু বলে।

120. অযৌন-জননের সুবিধাগুলি উল্লেখ করো।
উঃ

  • ১। কম সময়ে অধিক সংখ্যক জীবের সৃষ্টি হয়
  • ২। অযৌন-জননে জনিতৃজীব এবং অপত্যজীব সমবৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হয়ে থাকে।


121. অযৌন-জননের অসুবিধাগুলি উল্লেখ করো
উঃ

  • ১। অযৌন-জননে উৎপন্ন জীবগুলির মধ্যে প্রকরণের উৎস কম হওয়ায় নতুন প্রজাতির সৃষ্টি দেখা যায় না
  • ২। একই বৈশিষ্ট্যযুক্ত হওয়ায় অভিব্যক্তি দেখা যায় না
  • ৩। অতি সহজেই অবলুপ্তি ঘটে


122. যৌন-জনন বলতে কী বোঝ
উঃ যে জনন প্রক্রিয়ায় দুটি জনিতৃজীবের দেহ থেকে সৃষ্ট দু প্রকারের দুটি জননকোষ বা গ্যামেটের মিলনের ফলে অপত্যজীবের সৃষ্টি হয়, তাকে যৌন জনন বলে।

123. যৌন জননের একক কী
উঃ জননকোষ বা গ্যামেট।

124. Conjugation বা সংযুক্তি বলতে কী বোঝ
উঃ যে অনুন্নত ধরণের যৌন-জনন পদ্ধতিতে গ্যামেট বা জননকোষ দুটির আকৃতি গঠনে পার্থক্য দেখা না গেলেও একই প্রজাতিভুক্ত জীব অস্থায়িভাবে মিলিত হয়ে তাদের নিউক্লিয় পদার্থের বিনিময় ঘটিয়ে অপত্যজীব সৃষ্টি করে তাকে কনজুগেশান বা সংযুক্তি বা সংশ্লেষ বলে।

125. Conjugant ও Ex-conjugant বলতে কী বোঝ
উঃ সংশ্লেষে অংশগ্রহণকারী জীব দুটিকে কনজুগ্যাণ্ট বলে। আর সংশ্লেষের পরিসমাপ্তিতে বিচ্ছিন্ন জীবদ্বয়কে বলে এক্স-কনজুগ্যাণ্ট।

126. সিনগ্যামী বলতে কী বোঝ
উঃ সাধারণতঃ বহুকোষী জীবে এই প্রকার যৌন –জনন পদ্ধতি দেখা যায়। এই ক্ষেত্রে গ্যামেটের মাধ্যমে জনন-প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দুটি যৌনকোষের মিলন পদ্ধতিকে সিনগ্যামী বলে।

127. সিনগ্যামী কয় প্রকার ও কী কী
উঃ সিনগ্যামী তিন প্রকার

  • ১। আইসোগ্যামী
  • ২। অ্যানাইসোগ্যামী 
  • ৩। ঊগ্যামী


128. আইসোগ্যামী (Isogamy) কী
উঃ দুটি গ্যামেট যখন আকৃতি, প্রকৃতি এবং একই গুণবিশিষ্ট হয়, তখন ওদের আইসোগ্যামেট এবং ওদের মিলনকে আইসোগ্যামী বলে।

129. অ্যানাইসগ্যামী (Anisogamy) কী
উঃ যখন গ্যামেটগুলি আকৃতি প্রকৃতি এবং স্বভাবের দিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, তখন ওদের পুরুষ এবং স্ত্রী গ্যামেট বলা হয়। এই ধরণের গ্যামেটগুলিকে অ্যানাইসোগ্যামেট বলে এবং এদের মিলনের ফলে যে জনন প্রক্তিয়া সম্পূর্ণ হয় তাকে অ্যানাইসোগ্যামী বলে।

130. উগ্যামী (Ugamy) কী।
উঃ দুটি জননকোষের একটি ছোট ও সচল অর্থাৎ শুক্রাণু, অপরটি বড় ও গমনে অক্ষম অর্থাৎ ডিম্বাণুর মিলনের ফলে যে যৌন-জনন সম্পাদিত হয় তাকে ঊগ্যামী বলে।

131. Fertilization বা নিষেক বলতে কী বোঝ
উঃ পুং এবং স্ত্রী জননকোষের স্ব-বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে মিলিত হলে ঐ মিলনক-পদ্ধতিকে ফারটিলাইজেশান বা নিষেক বলে।

132. সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন–জনন অঙ্গ কোনটি
উঃ পুষ্প বা ফুল।

133. একটি আদর্শ ফুলে কয়টি স্তবক? কী কী
উঃ চারটি স্তবক থাকে। বৃতি, দলমণ্ডল, পুং-স্তবক এবং স্ত্রী-স্তবক।

134. অত্যাবশকীয় স্তবক বলতে কী বোঝ।
উঃ অ্যানড্রোসিয়াম বা পুং স্তবক ও গাইনেসিয়াম বা স্ত্রী-স্তবককে অতাবশ্যকীয় বা অপরিহার্য স্তবক বলে। কারণ এই স্তবক দুটি জননকোশ গঠন করে প্রতক্ষভাবে জননকার্য সম্পন্ন করে।

135. ডিম্বকের অংশগুলির নাম লেখ।
উঃ ডিম্বকে ডিম্বকনাড়ী, ডিম্বকনাভি, ভ্রূণপোষক, ডিম্বকত্বক, ডিম্বকরন্ধ্র, ডিম্বকমূল, ভ্রূণস্থলী ইত্যাদি দেখা যায়।

136. ডেফিনিটিভ নিউক্লিয়াসে কতগুলি ক্রোমোজোম থাকে
উঃ 2n বা ডিপলয়েড সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে।

137. Double Fertilization বা দ্বি-নিষেক বলতে কী বোঝ
উঃ গর্ভাধানের পর অবশিষ্ট পুংজনন নিউক্লিয়াসটি কিছুদুর অগ্রসর হয়ে ভ্রূণস্থলীর কেন্দ্রস্থিত ডেফিনিটিভ নিউক্লিয়াস্‌ বা সেকেণ্ডারী নিউক্লিয়াসের সঙ্গে মিলিত হলে, তাকে Double Fertilization বা দ্বি-নিষেক বলে।

138. হ্যাপ্লয়েড ক্রোমোজোম বা n-সংখ্যক ক্রোমোজোম কোথায় দেখা যায়

  • উঃনিম্ন লিখিত অংশে হ্যাপ্লয়েড ক্রোমোজোম ক্রোমোজোম দেখা যায়ঃ 
    •  ১। টিউব নিউক্লিয়াসে
    • ২। জনন নিউক্লিয়াসে
    • ৩। দুটি পুংজনন কোষে
    • ৪। সাইনারজিডস বা সহকারী কোষে
    • ৫। ওভাম বা ডিম্বাণুতে
    • ৬। অ্যান্টিপোডাল সেল বা প্রতিপাদ কোষে।


139. ডিপ্লয়েড ক্রোমোজোম বা 2n-সংখ্যক ক্রোমোজোম কোথায় দেখা যায়।
উঃ ১। ডেফিনিটিভ নিউক্লিয়াসে।
      ২। ভ্রূণাণুকোষে।

140. ট্রিপ্লয়েড ক্রোমোজোম বা 3n-সংখ্যক ক্রোমোজোম কোথায় দেখা যায়
উঃ এণ্ডোস্পার্ম বা সস্যতে।

141. যদি কোনো উদ্ভিদে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ১৪ বা ‘2n’ হয়, তবে ওই উদ্ভিদের Egg-nucleus বা ডিম্বাণুতে ও Endosperm বা সস্যতে এবং Embryo বা ভ্রূণে ক্রোমোজোমের সংখ্যা কত হবে
উঃ Egg-nucleus বা ডিম্বাণুতে হবে ৭ বা ‘n’ সংখ্যক ক্রোমোজোম
Endosperm বা সস্যতে হবে ২১ বা ‘3n’ সংখ্যক ক্রোমোজোম
Embryo বা ভ্রূণে হবে ১৪ বা 2n সংখ্যক ক্রোমোজোম।

142. জিন কোথায় থাকে।
উঃ জিন ক্রোমোজোমে অবস্থিত।

143. কোথায় RNA জিনরূপে কাজ করে
উঃ ভাইরাসে RNA জিনরূপে কাজ করে।

144. মানুষের ক্রোমোজোমের সংখ্যা কত
উঃ ২৩ জোড়া অর্থাৎ ৪৬ টি।

145. পুরুষের সেক্স ক্রোমোজোম কীভাবে প্রকাশ করা হয়
উঃ পুরুষের সেক্স ক্রোমোজোম XY রূপে প্রকাশ করা হয়।

146. স্ত্রীলোকের সেক্স ক্রোমোজোম কীভাবে প্রকাশ করা হয়
উঃ স্ত্রীলোকের সেক্স ক্রোমোজোম XX রূপে প্রকাশ করা হয়।

147. ক্রোমোনিমার পুঁতির দানার মতো অংশগুলিকে কী বলে
উঃ ক্রোমোমিয়ার (chromomere)বলে।

148. মেটাসেণ্ট্রিক ক্রোমোজোমে সেন্ট্রামিয়ার কোথায় থাকে
উঃ মাঝখানে।

149. স্যাটেলাইটযুক্ত ক্রোমোজোমকে কী বলে
উঃ স্যাট ক্রোমোজোম।

150. DNA – এর নাইট্রোজেন বেস দুটি কী কী
উঃ পিউরিন ও পিরিমিডিন।

151. প্রাণীকোশের কোন অঙ্গাণু কোশ বিভাজনকালে বেম গঠন করে
উঃ অ্যাস্ট্রাল রশ্মি।

152. উদ্ভিদকোশের কোন অঙ্গাণু কোশ বিভাজনকালে বেম গঠন করে
উঃ সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত মাইক্রোটিউবিউল।

153. কোন কোশ বিভাজনকে প্রত্যক্ষ বিভাজন বলে
উঃ অ্যামাইটোসিসকে।

154. কোথায় অ্যামাইটোসিস কোশ বিভাজন দেখা যায়।

উঃ ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, অ্যামিবা ইত্যাদি এককোশী জীবদেহে দেখা যায়।

155. ভ্রুণের পরিস্ফুটনকালে কী ধরণের কোশ বিভাজন দেখা যায়
উঃ মাইটোসিস।

156. একটি মাতৃকোশ থেকে চারটি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয় কোন প্রকার কোশ বিভাজনে
উঃ মিয়োসিস বিভাজনে।

157. ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিনদ্বয় পরস্পর কোথায় সংলগ্ন থাকে
উঃ সেন্ট্রোমিয়ার অঞ্চলে।

158. কোশ বিভাজনের কোন দশায় নিউক্লিওলাসের বিলুপ্তি ঘটে
উঃ মেটাফেজ দশা শুরু হওয়ার পূর্বে অর্থাৎ প্রফেজ ও মেটাফেজ দশার অন্তর্বর্তী ক্ষণস্থায়ী দশাটিকে প্রোমেটাফেজ (prometaphase) বলে। প্রকৃতপক্ষে এই সময়ই নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয় পর্দার অবলুপ্তি ঘটে।

159. পিতৃ ও মাতৃ ক্রোমোজোমদ্বয়ের দেহাংশের বিনিময়কে কী বলে
উঃ ক্রসিং ওভার।

160. ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা কোন কোশ বিভাজনের কাজ
উঃ মিয়োসিস কোশ বিভাজনের।

161. অযৌন জননের একক কী
উঃ স্পোর বা রেণু।

162. যৌন জননের একক কী
উঃ জননকোষ বা গ্যামেট।

163. পুংগ্যামেট ও স্ত্রীগ্যামেটের মিলনকে কী বলে
উঃ নিষেক।

164. কোন প্রাণীর বহুবিভাজন পদ্ধতিতে জনন সম্পন্ন হয়
উঃ প্লাসমোডিয়ামের।

165. কোন প্রাণীর পুনরুৎপাদন ঘটে
উঃ প্ল্যানেরিয়া, স্পঞ্জ, হাইড্রা, কেঁচো প্রভৃতি।

166. কোরকের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে কোন ছত্রাক
উঃ ইস্ট।

167. খর্ব ধাবকের সাহায্যে অঙ্গজ জনন হয় কোন উদ্ভিদের
উঃ কচুরিপানা, টোপাপানা প্রভৃতি।

168. জনুক্রম দেখা যায় এমন একটি উদ্ভিদের উদাহরণ দাও
উঃ ফার্ন।

169. কর্ষণ দ্রবণে কী কী হরমোন দেওয়া হয়
উঃ অক্সিন ও সাইটোকাইনিন।

170. কোন কোশ বিভাজনে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক থাকে
উঃ মিয়োসিস

171. রেণু কোন জননের একক
উঃ অযৌন জননের।