চেন্নাই এ আটকে পড়া মুর্শিদাবাদের মানুষের পাশে করিমপুর ১ ব্লকের বিডিও অনুপম চক্রবর্তী

মুর্শিদাবাদ জেলার চেন্নাই আটকে পড়া মানুষের কাছে মসিহা হয়ে দাঁড়ালেন নদিয়ার করিমপুর এক ব্লকের বিডিও

Img

মুর্শিদাবাদের পাড়দিয়াড় জিতপুর এর  কিছু গরিব মানুষ চেন্নাই কাজে যাওয়ার পরে কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয়ে যায় লকডাউন। জমে থাকা কিছু টাকা বেশিদিন তাদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারেনি। তাই স্থানীয় চেন্নাইয়ের মানুষের কাছে হাত পাততে হয়েছিল তাদের সবাইকে। আটকে পড়া শ্রমিকদের মধ্যে একজন ছিলেন রফিকুল ইসলাম । ফেসবুকে তার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে তিনি সম্পূর্ণ গল্পটি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেন । সাথে করিমপুর 1 নম্বর ব্লকের বিডিও অনুপম চক্রবর্তীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

শ্রমিকদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম নামে একজন বলেন,
আমরা কয়েক মাস হল চেন্নাইয়ে কাজে এসেছি এবং কাজে এসে ফেঁসে গেছি। লকডাউন এর ফলে আমাদের কাছে বিশেষ কোন পয়সাকড়ি ছিলনা।যা কিছু পয়সা ছিল আমরা সপ্তাহ দুয়েক মত খাওয়া-দাওয়া ঠিক মতো করতে পেরেছিলাম। তারপর খুব কষ্ট হয়েছে ; এখানকার লোকের কাছে চেয়ে চেয়ে খেয়েছি।

তিনি আরো বলেন,
আমরা আমাদের গ্রামের প্রধানের কাছে ফোন করি এবং আমরা ওনার কথামতো  যে সমস্ত মানুষ এখানে আছে তাদের লিস্ট উনাকে দি। তারপরে আমরা বিভিন্ন দপ্তরে আমরা জানাই এই একই কথা কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়না।
আমাদের পরিস্থিতি খুব খারাপ হচ্ছিল।  উনারা আমাদের চেন্নাইয়ের লোকাল থানায় যোগাযোগ করতে বলেন।যেহেতু আমাদের ভাষা অন্য এবং বাইরে বেরোলেই আমরা আইন ভঙ্গের অপরাধে পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হব এমন ভয় আমরা বের হয়নি।

ভিডিওতে বারবারই রফিকুল ইসলাম তাদের পেটের ক্ষুধার কথা উল্লেখ করেন। ভিডিওতে একাধিক শ্রমিককে দেখা যায় যাদের মুখে ফুটে উঠছিল সন্তুষ্টি আর কোন এক বিশেষ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা আর শ্রদ্ধা।

তিনি আরও যোগ করেন,
আমার পরিচিত একজন আমাকে করিমপুর 1 নম্বর ব্লকের বিডিও সাহেব এর ফোন নাম্বার দেন।আমরা করিমপুর 1 নম্বর ব্লকের বিডিও সাহেবকে আমরা  ফোন করি এবং উনাকে আমাদের নাম সহ ঠিকানা সমস্ত কিছু ওনাকে বলি।তিনি এই তথ্য এখানকার কোন অফিসে সরকারিভাবে অবশ্যই পাঠিয়ে ছিলেন তাই এখান আমাদের কে ফোন করা হয় এবং বলে যে উনারা আমাদের খাবার দেবেন।

এই খাবার পাওয়ার পর আমরা ভাবি হয়তো আর কিছু পাবো না তাই আবার আমরা আবার  মানুষের কাছে চেয়ে খেতে শুরু করি, গতকাল অর্থাৎ 15 তারিখে আবারো আমি ফোন করি করিম্পুর 1 নম্বর ব্লকের বিডিও সাহেবকে এবং মেসেজ করি আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ এবং শোচনীয় তা জানায় ।

তিনি আমাদের আশ্বাস দিন যে উনি চেষ্টা করবেন।
উনি এত সুন্দর ভাবে চেষ্টা করবেন আমরা ভাবতেও পারিনি যেখানে এতো চেষ্টার পরেও অনেক জায়গা থেকে সাহায্যের হাত আমাদের কাছ থেকে সরিয়ে নিলেও উনি কিন্তু তা করেননি, আমাদের মত গরিব মানুষের কথা বলি ভেবেছেন  ।

তারপরে রফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন কিভাবে শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে পৌঁছে যায় সাহায্য। তিনি বলেন,
আজকের চেন্নাইয়ের এখানকার লোকাল কাউন্সিলর আমাদের কাছে আসে এবং আমাদের বলেন যে উনি আমাদের রাজ্যের তরফ থেকে আসা অর্ডার এর জন্যই এখানে এসেছেন। আমরা বুঝতে পারি যে এই সমস্ত কিছুর জন্য শ্রেয় যাবে করিমপুর এক নম্বর ব্লকের বিডিও সাহেব এর উপর।

এরপর তারা করিমপুর 1 নম্বর ব্লকের ভিডিও অনুপম চক্রবর্তী কে শতকোটি প্রণাম জানানোর কথা উল্লেখ করে তাদের শেষ কথাটি বলেন। যে কথাটি হৃদয়কে বিদীর্ণ করে দেয়। তারা বলেন,
আমরা এক সপ্তাহ পরে আজকে ঠিকমত খেতে পেলাম।

মাধ্যমিক বন্ধু অ্যাপ্লিকেশন এখন প্লে স্টোরে নিচের আইকন এ ক্লিক করে ডাউনলোড করুন।

Get it on Google Play