Header Ads Widget

মহামারী সিরিজ - প্রথম পর্ব : বিউবনিক প্লেগ এবং একটি রাজনৈতিক হত্যা

বিউবনিক প্লেগ এবং একটি  রাজনৈতিক হত্যা 

লেখকের পরিচয় :
নাম - কোরক বিশ্বাস 
ভারতীয় বিজ্ঞান শিক্ষা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পুণে।


সেপ্টেম্বর, ১৮৯৬। সকাল সকাল বোম্বের নওরোজি হিল স্লামে কলে এসেছেন গোয়ানিজ ডাক্তার অ্যাকাসিও ভিগাস। রোগী অসম্ভব জ্বরে প্রায় অচেতন। সঙ্গে ডাইরিয়া। আর তার হাত পায়ের আঙুলে কালসিটে ছোপ। রোগীর দিকে বেশ কিছুক্ষণ সম্মোহিতের মতো তাকিয়ে চোখ ফেরালেন ডাক্তার। তাঁর চারপাশে জটলা করে আছে রোগীর আত্মীয় পরিজন, পাড়া প্রতিবেশী। এরা প্রায় সকলেই বহিরাগত; কাপড় মিলের মজুর। অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে ‘চল’-এ একসাথে গাদাগাদি করে থাকে এরা। ভিগাস বুঝলেন অনেক দেরী হয়ে গেছে। না। আগে খবর পেলেও রোগীকে বাঁচানো হয়তো যেত না। কিন্তু যে অবশ্যম্ভাবী দুর্যোগ তিনি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন, তা হয়তো আটকানো যেতে পারতো। বাট বেটার লেট দ্যান নেভার। আর এক মুহূর্ত সময়ও নষ্ট করা যাবে না। সামান্য কিছু ওষুধ দিয়ে ডঃ ভিগাস উঠে পড়লেন। তারপর ঝড়ের মতো বাইরে বেরিয়ে মুহূর্তের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেলেন তিনি।

অফিশিয়াল রিপোর্টে নেটিভ ক্রিশ্চান ডাক্তার ভিগাস জানালেন দুরারোগ্য বিউবনিক প্লেগ থাবা বসিয়েছে ভারতবর্ষে। কলোনিয়াল সরকার নড়ে চড়ে বসলেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। দেখতে দেখতে মহামারীর উত্তাল ঢেউয়ে  তছনছ হয়ে গেলো কোঙ্কন এবং মালাবার উপকূলের বন্দর শহরগুলো। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলো বোম্বে। শহর ছাড়লেন লক্ষাধিক মানুষ। ডঃ ভিগাস প্রবল ঝুঁকি নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেনিং শুরু করলেন। বাস্তুহারা মানুষদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিলেন জামসেদজী টাটা।

বোম্বের এই মহামারীর আঁচ এসে লাগলো পুণাতেও। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিলো। তড়িঘড়ি গঠন করা হল স্পেশাল প্লেগ কমিশন। সিভিল সারভেন্ট ওয়াল্টার চার্লস র‍্যান্ড হলেন কমিশনের প্রধান। মহামারী রোধে কিছু আবশ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো এই কমিশনের বৈঠকে। গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পুণার সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হলো সম্পূর্ণ ভাবে। শুরু হলো পুলিশি সহায়তায় পেশেন্ট আইডেন্টিফিকেশন এবং আইসোলেশনের কাজ। একদল পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে সকলের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতেন। দিন কয়েকের মধ্যেই অবশ্য ছবিটা সম্পূর্ণ অন্য দিকে মোড় নিতে শুরু করল। সামনে এসে পড়লো ব্রিটিশদের কুরুচিকর মনোভাবের পরাকাষ্ঠা। স্বাস্থ্যপরীক্ষার অছিলায় তরুণীদের শ্লীলতাহানির ঘটনা স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ালো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকাশ্য রাস্তায় কুলবধূকে সম্পূর্ণ বেআব্রু করে চললো পেশেন্ট আইডেন্টিফিকেশনের নাটক। আপত্তি জানালে চলতে থাকলো গোরা পুলিশের অকথ্য অত্যাচার। স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষেপে উঠলেন পুণার ‘নেটিভ’ নাগরিকবৃন্দ। লোকমান্য তিলক বললেন – পুণাতে যে বর্বরতা চলছে তা প্লেগের থেকেও ভয়াবহ। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হলো বটে কিন্তু উদ্ধত, দুর্বিনীত র‍্যান্ড তাতে বিশেষ আমল দিলেন না। সকলের অলক্ষ্যেএক তীব্র অসন্তোষ মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো।
           
১৮৯৭ সালের ২২ শে জুন। রাণী ভিক্টোরিয়ার রাজত্বের হীরক জয়ন্তী উপলক্ষ্যে পুণার গভর্নরস হাউসে (বর্তমানে এটি পুণে ইউনিভার্সিটির মেইন অ্যাকাডেমিক বিল্ডিং) এক সান্ধ্য সমাপানক উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আমন্ত্রিত রয়েছেন সরকারের অনেক উচ্চপদস্থ আধিকারিক।ক্ষান্তবর্ষণ সেই সন্ধ্যায় গভর্নরের মুখরিত বাসভনের সামনে এসে থামলো সুদৃশ্য এক অশ্বশকট। দরজা খুলে রাজার মতো নামলেন চার্লস র‍্যান্ড। তাঁকে যথোচিত মর্যাদায় অভ্যর্থনা করে নিয়ে য়াওয়া হলো অন্দরমহলে। সারা সন্ধ্যা জুড়ে ছুটলো অফুরন্ত পানীয়ের ফোয়ারা। ওদিকে বাইরে অজস্র লোক ভীড় করে দেখছেন আতশবাজির প্রদর্শন।  ক্রমে রাত ঘন হয়ে আসলো। আস্তে আস্তে ফাঁকা হতে থাকলো গভর্নরের প্রাসাদোপম আবাসগৃহ। দুজন নেটিভ আর্দালির কাঁধে ভর দিয়ে টলতে টলতে র‍্যান্ড যখন তাঁর সুদৃশ্য গাড়িতে গিয়ে উঠলেন, তখন ফের ঝিরঝির করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

গভর্নরস হাউস থেকে বেরিয়ে সামনেই গণেশখিন্ড রোড। রাস্তার দুপাশে সুদৃশ্য গাছের সারি। অনেকটা বনবীথিকার মতো। ইংরেজিতে যাকে বলে বুলেভার্ড। এই রাস্তা ধরে সোজা দক্ষিণ পূর্বে মাইল তিনেক গেলে মুলা এবং মুথা নদীর সঙ্গমের কাছে সরকারি আমলাদের নিবাসস্থল। র‍্যান্ডের গাড়ি সেদিকেই ছুটলো। সামনে লেফটেন্যান্ট আয়ার্স্ট। কিছুদূর যেতেই বর্ষণমুখর রাত্রির মসীকৃষ্ণ অন্ধকার ফুঁড়ে ঐন্দ্রজালিকের মতো কারা যেন ঝাঁপিয়ে পড়লো গাড়িদুটোর ওপর । কিছু বুঝে ওঠার আগেই পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গর্জে উঠলো রিভলবার। পলকের মধ্যে অন্ধকারের ঐন্দ্রজালিকেরা আবার মিশে গেলো অন্ধকারেই। শুধু সুদৃশ্য অশ্বশকটের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে রইলেন রক্তাক্ত র‍্যান্ড এবং লেফটেন্যান্ট আয়ার্স্ট।

এই ভয়ানক হত্যাকান্ডে হকচকিয়ে গেলো সরকার। ‘দুর্বৃত্ত’দের যথাশীঘ্র সম্ভব ধরতেই হবে- নির্দেশ এলো উপর মহল থেকে। কিন্তু প্রশ্ন উঠলো- কী ভাবে। ২২ শে জুনের বর্ষণমুখর রাত্রে গণেশখিন্ড রোডে যে হত্যাকান্ড হয়েছে তাকে কেবল একটিমাত্র শব্দবন্ধেই বিশেষিত করা যায় – পারফেক্ট মার্ডার। নিখুঁত হত্যা।  গোয়ন্দা দফতরও তাই বিশেষ সুবিধা করতে পারলো না। ‘আততায়ী’দের ধরার জন্য পুরস্কারের কথা ঘোষণা করলেন পুণার তদানীন্তন ম্যাজিস্ট্রেট মিঃ ল্যাম্ব। র‍্যান্ড এবং আয়ার্স্টের হত্যাকারীদের মাথার দাম ধার্য হলো ২০,০০০ টাকা।  হত্যার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে যুক্ত কেউ যদি অর্থলোভে বাকিদের ধরিয়ে দেয়- সেই আশায় বসে রইলেন সরকার বাহাদুর।

১১ ই অগাস্ট, ১৮৯৭। দক্ষিণ বোম্বের বায়কুলা সংশোধনাগারের সুপারিন্টেন্ডেন্ট একটি চিঠি পেলেন। পত্রলেখক ওই সংশোধনাগারেরই জনৈক কয়েদী। নাম গণেশ শঙ্কর দ্রাবিড়। তাঁর দাবি র‍্যান্ডের হত্যাকান্ডের রহস্য সমাধান তিনি করবেন। শর্ত হিসেবে তাঁকে শুধু মুক্তি দিতে হবে। ব্যাস, এটুকুই। শর্ত মঞ্জুর হলো। মুক্তি পেতেই শুরু হল অপারেশন। একসময় পুণের সদ্য জাগরিত জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলির সাথে গণেশ শঙ্কর এবং তাঁর ভাই রামচন্দ্র শঙ্করের অল্প বিস্তর যোগাযোগ ছিলো। সেই যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রাবিড় ভাইয়েরা সংগ্রহ করলেন অনেক গোপন তথ্য। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ১৮৯৭ সালের অক্টোবর মাসে গোপন অভিযান চালিয়ে বম্বে থেকে গ্রেফতার করা হলো দামোদর হরি চাপেকারকে। বিচারে সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হল- ২২ শে জুন রাত্রের দুঃসাহসী হত্যাকান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দামোদর।

 ১৮৯৮ সালের ১৮ ই এপ্রিল পুণার ইয়াড়ওয়াড়া জেলে ফাঁসি হল দামোদরের। কিন্তু এখানেই সবকিছু শেষ নয়। ওই হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত ছিলেন আরো একজন। বালকৃষ্ণ হরি চাপেকার। দামোদর চাপেকরের আপন ভাই তিনি। বালকৃষ্ণ তখনো অধরা। তাঁকে না ধরা পর্যন্ত সরকারের শান্তি নেই। আবারো নতুন চাল চাললেন কলোনিয়াল সরকার বাহাদুর। দামোদরের ফাঁসি হয়ে গেলে পূর্বনির্ধারিত পুরস্কার মূল্যের মাত্র অর্ধেক টাকা দেওয়া হলো দ্রাবিড় ভাইদের । বলা হলো বালকৃষ্ণকে ধরিয়ে দিতে পারলে বাকি অর্ধেক  টাকা তাঁরা পাবেন। 

আবারো নির্ভুল খবর দিলেন গণেশ শঙ্কর। বালকৃষ্ণ আত্মগোপন করে আছেন নিজাম রাজ্যের সাতপুরা পর্বতের কোনো এক দুরধিগম্য ডেরায়। গোপন অভিযান চালানো হলো। কিন্তু অভিযান ব্যর্থ হলো। বোঝা গেলো এই দুর্গম শৈলপ্রদেশে তাঁকে কয়েদ করা কার্যত অসম্ভব। শেষ পর্যন্ত  স্থানীয় ইয়েরকালা সম্প্রদায়ের ডাকাতদের সহায়তায় গোডুক রেলওয়ে স্টেশন থেকে বালকৃষ্ণ চাপেকারকে গ্রেফতার করা হয়। মাত্র ৬০০ টাকা পুরস্কার মূল্যের বিনিময়ে বালকৃষ্ণকে ধরিয়ে দেয় ওই ডাকাত দলটি।  দ্রাবিড় ভাইয়েরাও তাঁদের পুরস্কারের বাকি অংশটুকু হাতে পান।

১৮৯৯ সালের কোনো এক বসন্তের সন্ধ্যায় গণেশ এবং রামচন্দ্র খবর পেলেন পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট তাঁদের জরুরি তলব করেছেন । আবারো কোনো গোপন রহস্য সমাধানে যেতে হবে তাঁদের। এবং সফল হলে পুনরায় লক্ষ্মীলাভ। হন্তদন্ত হয়ে তৈরী হয়ে নিলেন তাঁরা। তারপর বেরিয়ে পড়লেন বাড়ি থেকে। সন্ধ্যার অন্ধকার তখন গাঢ় হতে শুরু করেছে। কিছুটা দূরেই রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে পুলিশ সুপার কোনো একজনের সাথে কথা বলছেন। তাঁদের কাছে গিয়ে সেলাম করে দাঁড়ালেন দুই ভাই। কথা থামিয়ে মুখ ফেরালেন সুপার। কিন্তু তাঁকে দেখে দুই ভাইয়ের মুখ রক্তহীন ফ্যাকাশে হয়ে গেলো। ইনি তো পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট নন! স্বয়ং দামোদর চাপেকারের কনিষ্ঠ অনুজ বাসুদেব হরি চাপেকার। আর সঙ্গে তাঁরই সহকারী মহাদেব বিনায়ক রানাডে। দুজনে মূর্তিমান যমদূতের মতো দাঁড়িয়ে আছেন অন্ধকারে। প্রাণভয়ে দুই ভাই চাপেকারের পা জড়িয়ে ধরলেন। ক্ষমা চাইলেন বারবার।  সেই সন্ধ্যার নিরন্ধ্র অন্ধকারে আতঙ্কপান্ডুর দুজন বিশ্বাসঘাতককে কুকুরের মতো গুলি করে মারেন বাসুদেব চাপেকার এবং মহাদেব রানাডে। পুলিশ তাঁদের শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করে। ১৮৯৯ সালের মে মাসে পুণার ইয়াড়ওয়াড়ায় একে একে ফাঁসি হয় বালকৃষ্ণ চাপেকার, বাসুদেব চাপেকার এবং মহাদেব রানাডের।

রাউলাট কমিটি র‍্যান্ডের হত্যাকান্ডকে ভারতের প্রথম বৈপ্লবিক হত্যা বলে চিহ্নিত করেন। লোকমান্য তিলকের সাথে সাক্ষাতের সময় স্বামী বিবেকানন্দ তাঁকে বলেছিলেন – আমাদের উচিৎ বম্বের গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়ার কাছে চাপেকার ভ্রাতৃত্রয়ের সোনার মূর্তি নির্মাণ করা। ভগিনী নিবেদিতার সঙ্গে একবার সাক্ষাৎ হয়েছিল চাপেকার জননীর। বিনম্র শ্রদ্ধায় নিবেদিতা আভূমিনতা হয়ে প্রণাম করেছিলেন সেই রত্নগর্ভা তেজস্বিনী নারীকে।

কিছু কথাঃ


১) গণেশখিন্ড রোডের বনবীথিকা এখন আর নেই। গণেশখিন্ড রোড এখন মহানগরীর কোলাহলপূর্ণ ব্যস্ত একটি রাস্তা মাত্র। গাছপালার সন্ধান বিশেষ পাওয়া যায় না। 

২) পুণে যাওয়া ইস্তক হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়িয়েছি র‍্যান্ডের হত্যাস্থল। পাই নি। অবশেষে অগ্রজপ্রতীম সায়ন্তনদা খোঁজ দিলেন। একদিন বিকেলে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। গণেশখিন্ড রোডে এখন যেখানে ঝাঁ চকচকে সেন্ট্রাল মল হয়েছে, তার উল্টোদিকে চরম অবহেলায় পড়ে আছে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম রাজনৈতিক হত্যার মহানায়কদের একটা ছোটো মেমোরিয়াল। স্থানীয় লোকেদের জিজ্ঞেস করে জানলাম ওইটাই সেই ঐতিহাসিক হত্যাস্থল।

৩) পুণা ইয়াড়ওয়াড়া জেলের পাশ দিয়ে ক্যাবে যাওয়ার সময় একবার জনৈক ক্যাব ড্রাইভার আমাকে বলেছিলেন,
পাতা হ্যায় না আপকো ইয়ে ইয়েড়ওয়াড়া জেল হ্যায়? বহোৎ হি ফেমাস জেল হ্যায় ভাইয়া। এহি পে আজমল কাসবকো ফাঁসি দে দি গয়ী থি।
আমি হতবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়েছিলাম কিছুক্ষণ। কিছু বলতে পারিনি।

লেখককে অনুপ্রাণিত করার জন্য অবশ্যই পোস্টের নিচে কমেন্ট করবেন।