Header Ads Widget

জুনোসিস কি । কিভাবে জুনোসিস থেকে বাঁচবেন । জুনোটিক ডিজিজ

মানুষ ছাড়া অন্যান্য যে কোন প্রাণীর শরীর থেকে মানুষের শরীরে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ফাংগাস বাসা বাধলে তাকে জুনোটিক ডিজিজ বলা হয়।
third-party image reference

এক্ষেত্রে পশুপাখি পতঙ্গ বা সরীসৃপের শরীর থেকে বিভিন্ন উপায়ে রোগ জীবাণু মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে থাকে। সারা পৃথিবীতে যত ধরনের সংক্রামক রোগ রয়েছে তার 60 শতাংশই কোন না কোন সময়ে অন্যান্য প্রাণীর শরীর থেকে মানুষের মধ্যে এসেছিল। তবে ওই প্রাণীর দেহে এই জীবাণুর বিরুদ্ধে একপ্রকার ইমিউনিটি থাকে অথচ সেই জীবাণু কোনোক্রমে মানুষের দেহে প্রবেশ করলে সমস্যা তৈরি হয়।অচেনা জীবাণুর বিরুদ্ধে মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধে ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে অসুখ জটিল দিকে মোড় নিতে পারে ।নোবেল করোনাভাইরাস এর ক্ষেত্রে এমনই হয়েছে । সদ্য আবিষ্কৃত এই জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা ঠিক ভাবে কাজ করতে পারছে না ফলে রোগ ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত।

জুনোসিস হয় কিভাবে ?

যে প্রাণীর দেহে জীবাণু থাকে তাকে বলে উৎস বা রিজার্ভার ।সেই প্রাণী থেকে সরাসরি রোগ জীবাণু মানুষের শরীরে পৌঁছে যেতে পারে ।এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসাবে রেবিস ভাইরাস এর কথা বলা যেতে পারে।

কুকুর বিড়াল ইত্যাদি প্রাণীর দেহে থাকে রেবিস ভাইরাস । এবার সেই প্রাণী মানুষকে কামড়ালে মানুষের শরীরে পৌঁছে যায় রেবিস ভাইরাসটির ক্ষেত্রে প্রতিবার সরাসরি রিজার্ভার এর শরীর থেকে মানুষের দেহের জীবাণু পৌঁছায়। মানুষ থেকে মানুষের এই ভাইরাস ছড়ায় না।

আবার অনেক সময় জীবাণু প্রাথমিক পর্যায়ে রিজার্ভার থেকে সরাসরি মানুষের শরীরে পৌঁছায় ।তারপর মানুষ থেকে মানুষের সেই জীবাণু ছড়াতে থাকে ।এইচআইভি রোগ এমন একটি রোগ প্রাথমিকভাবে বাঁদর, শিম্পাঞ্জি থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছিল। এইচআইভি এরপর আক্রান্ত মানুষের সঙ্গে শারীরিক ঘনিষ্ঠতায় মাধ্যমে অন্য মানুষের ছড়িয়েছে ।

এছাড়াও অনেক সময় রিজার্ভার থেকে বাহক বা ভেক্টরের মাধ্যমে জীবাণু মানুষের শরীরে পৌঁছায় ।এক্ষেত্রে ডেঙ্গুর উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে।উট ,ছাগল , খরগোশ ইত্যাদি প্রাণীর শরীরে প্রাথমিকভাবে ডেঙ্গু ভাইরাস ছিল এডিস ইজিপ্টি মশা তাদের কামড়ানোর ফলে মশার ভাইরাসটি চলে আসে এরপর সংক্রমিত এডিস মশা কোন মানুষকে কামড়ালে তার শরীরের ডেঙ্গুর জীবাণু ঢুকে পরবর্তী সময়ে মশার মাধ্যমে সংক্রমিত মানুষ থেকে সুস্থ মানুষের ছড়িয়ে পড়ে

জুনোসিস বাড়ছে !

শেষ কুড়ি বছর আবিষ্কৃত হওয়া সংক্রামক রোগ গুলির বেশির ভাগটাই  জুনোসিস ,তাই গোটা পৃথিবীর চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের কাছে অন্যতম মাথাব্যথার কারণ হয়েছে এটা। এই বাড়বাড়ন্তের অন্যতম কারণ গুলি হল
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ব্যাপকহারে গাছ কেটে নগরায়ন ও শিল্পায়ন চলেছে ফলে মানুষের সঙ্গে অন্যান্য প্রাণীর আসার সংখ্যাটা অনেকটাই বেড়েছে ।
খুব দ্রুত গোটা পৃথিবীর আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়েছে অন্যান্য লোকের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে
পৃথিবীর জনসংখ্যা ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী ।বিপুলসংখ্যক মানুষের পেট ভরাতে প্রাণিজ খাদ্য দ্রব্যের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। ফলে অসংখ্য মানুষ প্রাণিজ খাদ্যদ্রব্যের পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এই মানুষগুলি সরাসরি বিভিন্ন প্রাণীর সংস্পর্শে এসে নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন ।
বিশ্বের পরিবহন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে ।এখন বিমানে চেপে মাত্র কয়েক ঘন্টায় এক দেশ থেকে অন্য দেশে উড়ে যাওয়া সম্ভব। তাই খুব সময়ের কম সময়ের মধ্যেই আক্রান্ত ব্যক্তি এক দেশ থেকে অন্য দেশে পৌঁছে  সেখানকার মানুষকে সংক্রমিত করছে। আবার অনেক সময় বিমানে চেপে অন্য দেশে পাড়ি দিচ্ছে সংক্রমিত মশা মাছির মতো রোগের বাহক ও।

জুনোসিস প্রতিরোধ কিভাবে ?

প্রকৃতির প্রতি মানুষকে আরও যত্নবান হতে হবে।
আবহাওয়া পরিবর্তন থামানোর চেষ্টা করতে হবে ।
মশা মাছির মতো রোগের বাহক গুলি বাড়বাড়ন্ত কমাতে হবে ।
প্রত্যেকের রোগ সম্বন্ধে সতর্ক থাকতে হবে ।
নিয়মিত হাতধোয়া , অকারণ চোখে নাকে মুখে হাত না দেওয়া ,হাঁচি-কাশি হলে মুখে রুমাল দেওয়া ইত্যাদি সর্তকতা নিতে হবে।চিকিৎসকের কাছে যাওয়া ভালো ।
আরো গবেষণা চালিয়ে নতুন ওষুধ এবং টিকা আনতে হবে।

কোন প্রাণী থেকে কি রোগ ছড়ায় ।  জুনোসিস । জুনোটিক ডিজিজ  PFD


  • নভেল করোনা - বাদুড় ।
  • সোয়াইন ফ্লু - পাখি ।
  • জাপানি এনকেফেলাইটিস - প্রাথমিক উৎস শুকর ,পাখি ইত্যাদি তারপর মশার মাধ্যমে মানব শরীরে।
  • সবধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা - ভাইরাস বিভিন্ন পশু ও পাখি থেকে সরাসরি মানব শরীরে
  • বার্ড ফ্লু - পাখি ।
  • জিকা - শিম্পাঞ্জি, গরিলা ।
  • প্লেগ - ইঁদুর ।
  • ইবোলা - শিম্পাঞ্জি গরিলা বাদুড় ।
  • নিপা বাদুর ও শুকর ।
  • জিয়ারডিয়াসিস - হরিণ গরু গাধা ইত্যাদি ।
  • অ্যানথ্রাক্স - বিভিন্ন তৃণভোজী প্রাণী ।
  • টিনিয়া সোলিয়াম - শুকর গরু ইত্যাদি গৃহপালিত প্রাণী।
  • হিস্টোপ্লাসমোসিস পাখিও বাদুড়।

Disclaimer: Information Gained from Newpaper .