Header Ads Widget

চাঁদনি রাতে লাভা লোলেগাঁও রিসপ ! এ রোমান্টিক অভিজ্ঞতা ভোলার নয়..

ভ্রমণ পিয়াসি বাঙালি সুযোগ পেলেই বেড়িয়ে পড়ে । কখনো দু'পা ফেলে শিশির বিন্দু, কখনো পাহাড় -জঙ্গল বা সমুদ্র।
Lava lolegaon City expedition
লাভা লোলেগাঁও রিসপ
 গত ছুটিতে প্রকৃতির হাতছানিতে ছুটে গিয়েছিলাম লাভা, লোলেগাঁও, রিসপ। সন্ধ্যায় খাগড়ঘাট স্টেশন থেকে তিস্তাতোর্সা এক্সপ্রেস ট্রেনে ভোর বেলায় এনজিপি। স্টেশনের  বাইরে বোলেরো গাড়ি । দু'রাত তিন দিন - গন্তব্য লাভা, লোলেগাঁও ও রিসপ। নেপালি ড্রাইভার, নাম বিধান রাই, বয়স তিরিশের কোঠায়। খুব ভদ্র আর মিশুকে । গাড়ির ভেতরে  ড্রাইভার সমেত আমরা সাত। গাড়ির  উপরে মালপত্র বেঁধে চললাম সুন্দরী রিসপের উদ্দেশ্যে। আমি ড্রাইভারের বাঁদিকে। খুব অল্প সময়েই ড্রাইভার ভায়ের সাথে আলাপ জমে গেলো। গাড়িতে চলতে চলতে কত অচেনা অজানা গল্প। পথে পানীয় জলের বোতল নিয়ে নিলাম পর্যাপ্ত মতো। শুনেছি রিসপে জলের খুব অভাব। সমতল রাস্তা থেকে আস্তে আস্তে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, খোলা। স্থানীয় ভাষায় নদীকে খোলা বলে। দু'পাশে যতদূর দেখা যায় ঘন সবুজ গাছের সারি আর মাঝে মাঝে সুসজ্জিত চা বাগান - চোখ জুড়িয়ে যায়। আকাশ পরিষ্কার নীল। পথে এক পাহাড়ি গ্রামে এক খাবারের দোকানে বিভিন্ন আনাজপাতি দিয়ে সুস্বাদু চাউ এর  সুপ খেলাম। পাশেই এক জায়গায় পাহাড়ি ছাগলের মাংস পাওয়া যাচ্ছে। আমার ভাইরাভাই, ডাব্বু খেতে খুব ভালোবাসে, বললো - দাদা এক কেজি মাংস নিয়ে নাও। আমিও রাজি। রাতের ব্যবস্থা। ৪০০ টাকা কেজি। একদম টাটকা।  মাংস নিয়ে আবার গাড়িতে । যত উপরে উঠছি ঠান্ডার আমেজ তত বাড়ছে। পাহাড় জঙ্গল আর আকাশজুড়ে শুধুই নিঃস্তব্ধতা। ধাপে ধাপে পাইনের গগনচুম্বী অরণ্য আর ঝুল ঝারু, এলাচের চাষ। কোথাও কোথাও  পাহাড়ের ঢাল বেয়ে সরু জলের ধারা, কোথাও বা ছোট্ট ঝর্ণা। গাড়ি চলেছে ধীরে  রহস্যময় অসংখ্য পাহাড়ি বাঁকের মধ্যে দিয়ে , প্রত্যেক বাঁকেই নতুন নতুন দৃশ্য। কোথাও মেঘের ভিতর দিয়ে পথ, পরক্ষণেই  আবার রৌদ্রজ্জ্বল প্রকৃতি। লাভা  পৌঁছালাম দুপুর দুটো। লাভা পর্বত আর পাইন জঙ্গলে ঘেরা ছোট্ট মনোরম জায়গা। উচ্চতা ৭২০০ ফুট। হাঁটা পথে লাভা মনেস্ট্রি,  তিন কিমি দূরে কাঞ্চনজঙ্ঘা ভিউ পয়েণ্ট। দশ কিমি দূরে নেওরাভ্যালি জাতীয় উদ্দ্যান, ছ্যাংগি ফলস। প্রচুর বন্য জীবজন্তু আছে।

আপ হামারা মেহমান : ঠান্ডায় শরীরে কাঁপুনি

 লাভাতে গাড়ি থেকে নামতেই ঠান্ডায় শরীরে কাঁপুনি শুরু হয়ে গেলো, তাড়াতাড়ি গরম পোশাক পরে  হাঁটা শুরু করলাম।  লাঞ্চ সারতে হবে। লাভা ঘনবসতিপূর্ণ জায়গা। অনেক বাড়ি, হোটেল,বেশ বড়ো মার্কেট,  প্রয়োজনীয় জিনিস মোটামুটি সব পাওয়া যায়, দাম বেশি। অনেক খোঁজের পর এক বাঙালি হোটেলে ডিম ভাত ডাল আলুভাজা। তাতেই সই, আর কিছু পাওয়া গেলো না। একশো টাকা মিল সিস্টেম। লাভা বাজারে এটিএম আছে। কিন্তু টাকা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। তাই সঙ্গে নগদ টাকা নিয়ে আসবেন। মোবাইল টাওয়ার পাওয়া যায়। লাঞ্চ সেরে বাজারের মধ্যে দিয়ে হাঁটছি। হঠাৎ বাজারের পাশে  এক ফালি ফাঁকা জায়গায় বেশ কিছু স্থানীয় গোর্খা আবাল বৃদ্ধ বনিতা বছরের প্রথম দিন উপলক্ষে নাচ গান মোজমস্তি করছে। অদ্ভুত মাদকতা।  সাথে দেদার পানীয়। ঠান্ডা বেশ জাঁকিয়ে পড়ছে । একদিকে কাঠের আগুন। আগুনের পাশে  এক মধ্যবয়সী  মহিলা  গ্লাসে বিয়ার পরিবেশন করছে, আর সবাই গোল হয়ে নেপালি গানের তালে তালে শরীর দোলাচ্ছে। আমরাও গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেলাম। কাছে যেতেই আমাদের সাদর আমন্ত্রন,  আবদার পা মেলানোর। কখন যে তাদের সাথে মিশে গিয়ে কোমর দোলাচ্ছি বুঝতেই পারি নি। আমার মেয়ে আর শ্যালিকার ছোট্ট মেয়েও ওদের সঙ্গে দিব্যি মিশে গেছে। আমাদের বিয়ার অফার করলেন।  ভদ্রতার খাতিরে একটু স্বাদ নিলাম। ওদের চোখে মুখে পোশাকে দারিদ্রের ছাপ, কিন্তু আজকের দিনে সব ভুলে আনন্দ মজা আর খানাপিনা।  টাকা দিতে গেলে প্রত্যাখ্যান করলেন। হাতচেপে  ধরে বললেন,
আপ হামারা মেহমান
। স্থানীয় উৎসব উপলক্ষে আজ লাভা মেতে উঠেছে। উৎসব কোন ভেদাভেদ মানে না। বাঙালি গোর্খা নেপালি একই তালে পা মেলাচ্ছে।  তাপমাত্রা আস্তে আস্তে কমছে,  পশ্চিমদিকে পাইন গাছের সারির মধ্যে দিয়ে সূর্য ঢলে পড়ছে। ইচ্ছে থাকলেও চলে আসতে হলো। বিদায়মূহুর্তে এক গোর্খা ভাই আমার মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বললেন,
মুঝে ইঁয়াদ রাখনা
। এবার আমাদের গন্তব্য লাভা মনেস্ট্রি। অসাধারন সুন্দর। চারপাশে পাইনের ঢল, মাঝে এই মনেস্ট্রি, খুব বড়ো। মনে হচ্ছে শিল্পীর  তুলি দিয়ে আঁকা ক্যানভাস । মনেস্ট্রির পেছনে যেতে ভুলবেন না।   ছোট্ট লামারা খেলা করছে ,  সারল্যভরা মুখ।  ভেতরে শান্ত সৌম্য বুদ্ধ মূর্তির সামনে লামারা প্রার্থনারত - বুদ্ধং শরনং গচ্ছামি ধম্মং শরনং গচ্ছামি সংঘং শরনং গচ্ছামি। আপনা থেকেই মনে আসে  এক অনাবিল প্রশান্তি।
Lava lolegaon City kalimpong

আগুনে ঝলসানো দেশি মুরগির রোস্ট - ' বারবিকিউ 'এর স্বাদ এখনো মুখে লেগে ..

সন্ধ্য নেমে আসছে, আর দেরী না করে এবার রিসপের দিকে গাড়ি এগিয়ে চললো। লাভা থেকে রিসপ গাড়ি পথে সাত কিমি। ট্রেকিং করেও যাওয়া যায়। পথ খুব খারাপ। রাস্তার কোন চিহ্ন নেই।  বড়ো নুড়ি পাথরে ভর্তি। দুপাশে ঘন জঙ্গল। ড্রাইভার ভাই বলছিল - এই জঙ্গলে হিংস্র ভালুকও আছে। ঝুপ করে অন্ধকার হয়ে গেলো। সবাই চুপ। চারিদিক শুনশান, অদ্ভুত এক নিঃস্তব্ধতা । কেমন যেন গা ছমছম করছে। অন্ধকারের বুক চিরে সামনে শুধু গাড়ির হেড লাইট। দক্ষ চালক না হলে এরাস্তায় আসা যাবে না। এক ঘন্টা পর আমরা পৌঁছালাম আমদের হোমস্টের সামনে, হিমালয়ান হাট, রিসপ। রিতম ভাই আগেই বুক করে রেখেছিলেন । হোম স্টের মালিক বিমল তামাং সহাস্যে আমাদের অভ্যর্থনা জানালেন। রবি বলে এক বিহারি কেয়ারটেকার। খুব সহজ সরল ছেলেটি। রবিই আমাদের ঘরে নিয়ে গেল। দুটো ঘর, কাঠের।  ঘর লাগোয়া বাথরুম টয়লেট। কোমডও  আছে। টিভি আছে কিন্তু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ভালোই হলো। বেড়াতে এসে টিভি দেখা আমার অপচ্ছন্দ। কনকনে ঠান্ডা। রবি কাঠের আগুনে  জল গরম করে এনে দিল। অযথা জল খরচ করা যাবে না - বাথরুমের দেওয়ালে লেখা। এখানে জলের খুব কষ্ট।   হাত-পা-মুখ পরিষ্কার করে গরম চা আর বিস্কুট। রবির হাতে মাংস দিয়ে বললাম - রাতে কষা মাংস আর রুটি, সাথে পেঁয়াজ। ঘরের বাইরে  দেখি আকাশে পূর্নিমার  চাঁদ। পরিষ্কার ঝকঝকে আকাশ। চাঁদের আলোয় উদ্ভাসিত দিগন্ত বিস্তৃত সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা। কি অপরুপ দৃশ্য। মনোমুগ্ধকর স্বর্গীয় পরিবেশ। চাঁদের স্নিগ্ধ আলোর বিচ্ছুরণে কাঞ্চনজঙ্ঘার যেন এক মায়াবী রূপ। হোমস্টের সামনের লনে দোলনায় বসে প্রকৃতির এই অপার্থিব দৃশ্যের সাক্ষী হতে পেরে নিজেদের খুব ধন্য মনে হচ্ছে। এ অনুভুতি বর্ণনাতীত। কিছুক্ষণ পর বিমল তামাং কিছু জ্বালানি কাঠ দিয়ে "বন ফায়ারের" ব্যবস্থা করে দিলেন। ঐ আগুনে ঝলসানো দেশি মুরগির রোস্ট - ' বারবিকিউ 'এর স্বাদ এখনো মুখে লেগে আছে। একদিকে আকাশে পূর্নিমার চাঁদ, অন্যদিকে চাঁদের আলোয় প্রজ্জ্বলিত কাঞ্চনজঙ্ঘা, আর আমরা সবাই গোল করে বারবিকিউ খেতে খেতে কনকনে ঠান্ডায় আগুন পোহাচ্ছি। আমার শ্যালিকার সুরেলা কন্ঠে রবীন্দ্রসংগীত - চাঁদের হাসির বাঁধ ভেঙেছে ....  । এ রোমান্টিক অভিজ্ঞতা ভোলার নয়।  চারিদিকে শুধু অজানা পোকার ডাক আর দূর বন থেকে নিশাচর পাখির ডাক। চাঁদনি রাতে  ঘুরতে বেরোলাম  রাস্তায়। কি যে আনন্দ হচ্ছিল ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। হোটেলে ফিরে রাত সাড়ে ন'টায় ডিনার। তাপমাত্রার পারদ হু হু করে নামছে। গোটা শরীর গরম পোশাকে ঢাকা। বিমল তামাং এর স্ত্রী কাঠের উনুনে গরম গরম রুটি করছেন দারুণ দক্ষতায়। ডিনারে -  পাহাড়ি ছাগলের কষা মাংস আর গরম গরম রুটি, সাথে পেঁয়াজ। ওহ! মজায় আলাদা !  রাত এগারোটায় শুয়ে পড়লাম। ঘরের ভেতর থেকে কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরের নয়নাভিরাম দৃশ্য। দুটো কম্বল, পায়ের মোজা থেকে মাথার টুপি সব সমেত বিছানায়। মনে হচ্ছে বিছানায় কে যেন বরফ জল ঢেলে দিয়েছে। বাইরে তাপমাত্রা মাইনাস দুই ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। কখন ঘুমিয়ে পড়েছি। পাশের ঘরে ভাইরাভায়ের ডাকে ঘুম ভাঙল। সকাল ছ'টা ।  দরজা খুলে বাইরে বেরোতেই  চোখের সামনে দিগন্তবিস্তৃত   কাঞ্চনজঙ্ঘার উপর সূর্যের প্রথম রক্তিম আলো। অনন্য সুন্দর !  অপার্থিব দৃশ্য। প্রথমে নিজের চোখকে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। সবাইকে ঘুম থেকে ডেকে তুললাম। এত কাছে কাঞ্চনজঙ্ঘা, পুরো ১৮০ ° দৃশ্যমান। মনে হচ্ছে রক্তিম গলিত সোনা কে যেন পর্বতের চূড়ামালায় ঢেলে দিয়েছে।  হাত বাড়ালেই পেয়ে যাবো,  এতো কাছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কাঞ্চনজঙ্ঘার মায়াবী  রূপেরও পরিবর্তন হতে থাকলো। চারদিকে আলো ঝলমল করছে,  গাছে গাছে পাখির কলতান । এক নৈসর্গিক পরিবেশ।


হোটেলের লনে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ শোভা দেখতে গরম চায়ের পেয়ালায় চুমুক । গরম জলে স্নান করে মোমো খেয়ে সকাল সকাল গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম। যাচ্ছি লোলেগাঁও। রিসপ থেকে লোলেগাঁও  প্রায় পঞ্চাশ কিমি , উচ্চতা ৭২০০ ফুট।  আকাশে নানা মেঘের অবয়ব আর রঙের কোলাজ। পাহাড়ি পথে ওক, পাইন এবং আরো নানা অচেনা অজানা গাছ, বিভিন্ন পাখি, প্রজাপতি,  কীটপতঙ্গ ও  জীবজন্তু। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম লোলেগাঁও,  হোটেল সান রাইজ। আগে থেকে বুক করা ছিলো। ভালো হোটেল, সুব্যবস্থা। হাত মুখ ধুয়ে লাঞ্চ,  খুব সুন্দর রান্না।  দুই লেপচা মহিলা হোটেল চালান। অমায়িক ব্যবহার।  কিন্তু বাংলা,  হিন্দি, ইংরেজি জানে না। আমাদের ড্রাইভার দোভাষীর কাজ করছিলো। কিন্তু ইশারাতেই বেশি কথা হচ্ছিল। কালিম্পং জেলার ছোট্ট লেপচা গ্রাম লোলেগাঁও। স্থানীয় ভাষায়  লোলে মানে নীচু, গাঁও মানে গ্রাম - অর্থাৎ নীচু গ্রাম। লোলেগাঁও থেকে চার কিমি দূরে ঝান্টিদাড়া সাইনরাইজ ভিউ পয়েন্ট, যেখান থেকে আবহাওয়া ভালো থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা ও মাউন্ট এভারেষ্ট দেখা যায়।   লোলেগাঁও হচ্ছে -   কুয়াশা ঘেরা - রহস্যময় - ফিসফিসিয়ে বাতাস যেখানে কথা কয় - শ্যাওলাঘেরা জোঁকেভরা জঙ্গল - তারই মাঝে ক্যানপি ওয়াক,   ঝুলন্ত সেতু - আর চায়ের কাপ হাতে হোটেলের বারান্দায় ঘোর লাগা চোখে বসে থাকা। লোলেগাঁও আসলে আপনার ছমছম ভৌতিক পরিবেশ অনুভুত হবেই। আমাদেরও হয়েছিলো। সন্ধ্যার পর সবাই হেঁটে চললাম একটু ঘুরে দেখতে। একদম শুনশান, নিজের শ্বাসপ্রশ্বাসের শব্দও শোনা যাচ্ছে। একটা বড়ো লোমশ পাহাড়ি কুকুর আমাদের সঙ্গ নিলো। রাস্তার একদিকে অতল খাদ, তার মধ্যে ওক, পাইন,  অর্কিড  গাছের সারি। অন্যদিকে গুটিকয়েক  হোটেল, লোকজন নেই , নিরিবিলি। কিছুটা এগিয়ে দু'একটি  খাবারের দোকান। সেখান থেকে রাতের আলোকমালায়  সজ্জিত কালিম্পং শহরকে  অসাধারন লাগে। একটি দোকানে চাউমিনের সুপ খেলাম৷, তিরিশ টাকা প্লেট। ওয়াওওও!  দারুণ স্বাদ। হোটেলে ফেরার পথে জোছনার আলোআঁধারে  হাঁটতে হাঁটতে  আমি একদম খাদের কিনারায়, হঠাৎ সম্বিত ফিরে এলো। শিরদাঁড়ায় হিমশীতল শ্রোত বয়ে গেল। দেখি কুকুরটি পাশে।  তাড়াতাড়ি হোটেলে ফিরে গেলাম। রাতের মেনু খুবই সুস্বাদু।  বিশেষ করে দেশি জংলি মুরগির ঝোল। আজকেই ট্যুরের শেষ রাত। সবাই রুমে একসাথে চুটিয়ে গল্প। এবার শোবার পালা। ঘুমিয়ে পড়েছি, হঠাৎ মেয়ের চিৎকারে ঘুম ভেঙে গেলো, মেয়ে ভয় পেয়েছে। যাহোক আবার সবাই ঘুমিয়ে পড়লাম। ভোর বেলায় হোটেলের ছাদে উঠে সূর্যোদয় দেখলাম। হোটেলের ব্যালকনি থেকে ভোরের আলোয় কাঞ্চনজঙ্ঘার শোভাও অপূর্ব।  । সকালে জানতে পারলাম শ্যালিকার মেয়ের নাকি গতরাতে বেঘোর জ্বর , এখন সুস্থ।  মনের ভেতর রহস্য আরো ঘনিয়ে এলো।  চা খেয়ে আমরা সবাই চললাম হাঁটা পথে ক্যানপি ওয়াক, ঝুলন্ত ব্রিজ, ১৮০ মিটার লম্বা কাঠের সেতু, গাছের সঙ্গে ঝুলছে  ঘন জঙ্গলের মধ্যে। ২০ টাকা টিকিট জনপ্রতি। খুব রোমাঞ্চকর। একসাথে পাঁচজনের বেশি চড়তে দেয় না। বেলা বাড়তেই হোটেলে ফিরে স্নান করে টিফিন শেষে গাড়িতে , এবার বাড়ি ফেরার পালা। গাড়ি চলতে শুরু করলো। হঠাৎ দেখি সেই কুকুর, লেজ নাড়ছে। আমরা এগিয়ে চললাম। পাহাড়ের বাঁকে কুকুরটি হারিয়ে গেল।     

 কালিম্পং জেলার এই অঞ্চলে বেশির ভাগ স্থানীয় মানুষ পর্যটকের উপর নির্ভরশীল। কিছু লোক গবাদি পশু পালন করে। খুব কম সংখ্যক চাকুরীজীবি। কৃষিকাজ বলতে এলাচ, ঝুল ঝারু আর কিছু সব্জী চাষ। একরাশ ভালোলাগা আর রোমাঞ্চকর  স্মৃতি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে এনজিপি স্টেশনের দিকে   চললাম। হাতে দিন কয়েক নিয়ে ঘুরে আসুন ছুটিতে। পাহাড়ের দূষনহীন পরিবেশ এবং সহজ সরল মানুষের মধ্যে কাটাতে আশাকরি ভালোই লাগবে। বেড়িয়ে পড়ুন।

প্রেরক - দীপক সাহা, করিমপুর,  নদিয়া ।