নভেল করোনা ভাইরাস | যে প্রশ্নগুলি প্রায়-ই উঠে আসছে | করোনা ভাইরাস সম্পর্কে এই কথাগুলো অবশ্যই জেনে রাখুন

preventive measure for coronavirus

নভেল করোনা ভাইরাস | যে প্রশ্নগুলি প্রায়-ই উঠে আসছে:

প্রঃ- ২০১৯ নভেল করোনা ভাইরাস কি?
উঃ- ২০১৯ নভেল করােনা ভাইরাস বা ২০১৯ এনকভ একটি নতুন ভাইরাস যা চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথম চিহ্নিত করা গেছে। এটিকে নভেল বলা হচ্ছে কারণ এটি পূর্বে দেখা যায় নি।

প্রঃ- ২০১৯ নভেল করোনা ভাইরাসের উৎস কি?
উ: - ২০১৯ নভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সঠিক উৎস চিহ্নিত করা যায়নি। করোনা ভাইরাস একটি বড় ভাইরাস পরিবারের অংশ, যা কিছু মানুষের দেহে সংক্রমণ ঘটায় এবং বাকি কিছু জীবদেহে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে খবর পাওয়া গেছে চীনের উহানে এই রোগের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সামু্রিক খাদ্য এবং পশু বাজারের নিবিড় সংযোগ আছে , এর থেকে ভাবা হচ্ছে জীবজগৎ থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।

প্রঃ- নোবেল করোনা ভাইরাসের প্রাথমিক উপসর্গ গুলি কি?
উঃ ২০১৯ এনকভের বর্তমান উপমর্গুলি হল তীর জ্বর, সর্দি-কাশি এবং শ্বাসকষ্ট ।

প্রঃ ভারতে কারোর কি সংক্রমণ দেখা গেছে?
উঃ- হাজারে সন্দেহভাজন মামলার পরীক্ষা করা হয়েছে যার ফলস্বরূপ ভারতে 45 টির জন্য করোনাভাইরাস কেস পাওয়া গিয়েছে , এর সর্বশেষতম ঘটনাটি পাঞ্জাব, কর্ণাটক, জম্মু ও কাশ্মীর, কেরল এবং তামিলনাড়ুতে। লাদাখ ও তামিলনাড়ুতে তিনটি মামলা দেখা গিয়েছে। ভারতে ভ্রমণ করা ইতালিরা Covid-19 করোনভাইরাসটির জন্য ইতিবাচক পরীক্ষা করেছে। তাদের নয়া দিল্লির চাওলা শিবিরে পৃথক করা হয়েছে।করোনাভাইরাসের জন্য ইতিবাচক পরীক্ষিত প্রথম তিন ভারতীয় কেরালার এবং তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে স্বদেশ-বিচ্ছিন্নভাবে রয়েছে। কেরালায় 8 মার্চ আরও পাঁচটি করোনভাইরাসের ঘটনা ঘটেছে।

নিজেকে এবং পরিবারকে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচাতে আপনার অবশ্যই জানা উচিত

চীনে করােনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক স্বরে বিভিন্ন দেশে দ্বড়িযে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। করােনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে জটিল উপসর্গ যেমন মিডিল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (মার্স)- অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (সার্স- কভ) ও থাকতে পরে।

প্রঃ- করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগের সাধারণ উপসর্গগুলি কি কি ?
১. সর্দি
২. কাশি
৩.স্বাসকষ্ট

প্রঃ- নিজেকে এবং অন্যদেরও কিভাবে রোগ সংক্রমণ থেকে রক্ষা করবে ?
যদি আপনি গত ১৪ দিনের মধ্যে চিনে গিয়ে থাকেন বা কোনও এক রােগীর সংস্পর্শে এসে থাকেন তাহলে নিম্নলিখিত নির্দেশগুলি মেনে চলুন-

  • দেশে ফেরার পর ১৪ দিন গৃহবন্দী থাকুন।
  • আলাদা করে ঘুমান।
  • পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগ রাখুন এবং বাইরের লােক এড়িয়ে চলুন।
  • হাঁচি- কাশির সময় নাক ও মুখ ঢাকুন।
  • কারাের সর্দি-কাশি বা ফ্লু এর মত উপসর্গ থাকলে তাকে এড়িয়ে চলুন। (কমপক্ষে একমিটার দূরত্ব বজায় রাখুন)

প্রঃ- চীনের ওহান বা অন্য দেশ যেখানে এই বােগের প্রাদুর্ভাব রযেছে সেখানে ভ্রমণে যাওয়া কি নিরাপদ ?
উঃ- অপ্রয়োজনে চীনে যাবেন না যদি যেতেই হয় নিচের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলু

  • ব্যক্তিগত পরিক্ষা মেনে চলুন।
  • নিজের শরীরের দিকে নজর রাখুন।
  • অসুস্থ হলে শীঘ্র চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • বিমানে ভ্রমণ কালে অসুস্থ বোধ করলে বিমানকর্মীদের আপনার সুস্থতা বিষয়ে জানান এবং তাদের খেকে মাস্ক চেয়ে নিন।
  • বিশদে জানতে ভ্রমণ বিষয়ক কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ওয়েবসাইট দেখুন।

প্রঃ- করোনাভাইরাস এর চিকিৎসা কি?
উঃ 2019 নভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কোন অ্যান্টি ভাইরাল ভাইরাস প্রতিরোধী চিকিৎসা এখনও নেই উপসর্গ গুলির উপশমে পরিষেবা দিতে হবে।

প্রঃ কি করে এই ভাইরাস ছড়াই ?
উঃ যেহেতু এই ভাইরাসটি নতুন,ঠিক কিভাবে এই ভাইরাস ছড়ায় তা নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না। সম্ভবত এই ভাইরাসের উৎস কোনাে প্রাণী। কিন্তু এই ভাইরাস বর্তমানে মানুষ থেকে মানুষে দড়াচ্ছে। এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি, ২০১৯ নভেল করোনা ভাইরাস কিভাবে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াচ্ছে। মন করা হচ্ছে, আক্রান্ ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে অর্থাৎ যেভাবে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা অন্যান্য শ্বাসনালী সংক্রমণের ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া ছড়াই সেইভাবে এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে ।

প্রঃ ২০১৯ নভেল করোনা ভাইরাসের প্রতিবােধে ভারত সরকার কি করছে ?
উঃ নিউ দিল্লীর এন.সি.ডি.সি( NCDC) তে ভারত সরকার ২৪x৭ হেলপ্লাইন চালু করেছে ।ভারত সরকার পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রাখছে এবং দেশের সবকটি রাজ্য যাতে এই ভাইরাস মােকাবিলায় সদা প্রস্তুত সে বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। যেহেতু এটি একটি আপৎকালীন এবং পরিবর্তনশীল অবস্থা, ভারত সরকার এই সংক্রান্ত সাম্প্রতিক তথ্য জানাতে থাকবে।

প্রঃ ২০১৯ নভেল করোনা ভাইরাসের কোনাে ভ্যাকসিন আছে ?
উঃ বর্তমানে নভেল করোনা ভাইরাসের কোন ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক নেই।

প্ৰঃ করোনাভাইরাস থেকে কেমনভাবে আমি নিজেকে রক্ষা করব ?
উঃ যেহেতু, ২০১৯ নভেল করােনা ভাইরাসের কোনাে প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন নেই। এই ভাইরাস প্রতিরোধের সবচেয়ে ভাল উপায় হল ভাইরাসটির সংযােগে না আসা।

  • একান্ত প্রযােজন না হলে চীন বা অন্যান্য সংক্রমণ- প্রবণ দেশগুলােতে যাত্রা করা এড়িয়ে চলতে হবে।
  • ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।
  • বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া অভ্যেস করুন।
  • হাঁচি ও কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখুন।

ডব্লু এইচ ও (WHO) এর ওয়েবসাইটে (ww.who.int) সংক্রামিত দেশগুলির ভালিকা পাওয়া যাচ্ছে এবং এটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর আপডেট করা হবে।

প্রঃ- যদি আমি ২০১৯ নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সংশ্পর্শে আসি তাহলে আমার কি করণীয় ?
সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার আঠাশ দিন পর্যন্ত নিজের স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষভাবে নর রাখুন। নীচের লক্ষণ গুলো দেখা যাচ্ছে কিনা সেদিকে বিশেষভাবে নজর রাখুন।
সর্দি কাশি আর শ্বাসকষ্ট
যদি ওপরের কেনাে লক্ষণ আপনার দেখা দেয় তাহলে সত্বর নিকটবর্তী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পরামর্শ ও চিকিৎসার জন্য যোগাযোগ করুন। আপনার নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে আপনার সংক্রামিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার সম্পর্কে বিশদে জানান।

আমার কি ২০১১ নাভেল করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণ পরীক্ষার প্রয়োজন?
উঃ যদি তীব্র স্বাসকষ্ট ও জ্বর আর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট খাকে, ভাহলে নিকটবর্তী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করুন এবং ডাক্তারবাবুর আপনার চীনে বা এই রােগের প্রাদুর্ভাবযুক্ত যে দেশে সেখানকার ভ্রমণ বা পরীক্ষায় প্রমাণিত সংক্রামিত ব্যক্তির সঙ্গে সংযােগের নিরীখে ঠিক করবেন আপনার এই অসুখের পরীক্ষার প্রয়ােজন আছে কি না।

বিশেষ অনুরোধ: এই পোস্টটি জনস্বার্থে প্রচারিত। তথ্যগুলি পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বারা প্রচারিত তথ্য থেকে সংগ্রহীত। পোস্টটি নিজের আত্মীয় স্বজন কে শেয়ার করে তাদের অবশ্যই সচেতন করুন।