মহুয়া মৈত্রের পার্লামেন্টে দেওয়া এই কড়া বক্তৃতা তাকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দিল।

TMC  মিনিস্টার অব পার্লামেন্ট ( MP )মহুয়া মৈত্রের পার্লামেন্টে দেওয়া এই কড়া  বক্তৃতা তাকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দিল।  

Mahua moitra , captured by Aslam Mondal
Mahua moitra , captured by Aslam Mondal

এই 44 বছর বয়সী রাজনীতিবিদ মাউন্ট হলিহক কলেজ মাশাচুসেটস এর মাউন্ট হলীয়ক , কলেজ থেকে গণিত এবং ইকোনমিক্স এ গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে। জেপি মরগান কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাকে লন্ডন এবং নিউইয়র্ক শহরে পোস্টিং দেওয়া হয়।

তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি মহুয়া মৈত্র এই ভিন্নমত পোষণ কে ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গার মানুষ খুব সুনাম করছে।
ইউপিএ গভমেন্ট নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিরাট জয়ের পর এই প্রথমবার দুর্বল মনে হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের বক্তব্য, মহামান্য স্পিকারের বাঁদিকে বসা এমন কেউ তো আছে । এমন কেউ তো আছে যে সরকারকে এমন অস্বস্তিতে ফেলার মত প্রশ্ন করতে ভীত হয় না।
মহুয়া মৈত্র ইন্টারনেট কে কাঁপিয়ে দিয়েছে তার 25 জুনের এই লোকসভার প্রথম কড়া বক্তৃতা দিয়ে। তার বক্তৃতার মধ্যে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ও রামধারি সিং দিনকর এর অনেক উদ্ধৃতির উল্লেখ ছিল।
মৈত্র পরবর্তীতে বিবিসি নিউজ কে বলে যে এটা ছিল তার কাজ " সরকারের বিফলতা গুলো কে সামনে নিয়ে আসা "
তিনি বলেন "দ্যাট ইজ মাই জব এন্ড আই উইল ডু দ্যাট টু দ্য বেস্ট অফ মাই এবিলিটি" অর্থাৎ "এটাই আমার কাজ এবং আমার যতটা সামর্থ্য আমি করব" ।
তার ফ্যাসিবাদের উপর অগ্নিশিখা ময় বক্তৃতা শুধু ন্যাশনাল মিডিয়া নয়, আন্তর্জাতিক মিডিয়া সকলের মনোযোগ কেড়ে নেয়।
নামকরা মেডিয়া হাউস বিবিসি, অস্ট্রেলিয়ার SBS এই প্রথম মিনিস্টার অফ পার্লামেন্টের আত্মবিশ্বাসী বক্তৃতাকে কভার করে।
2005 সালে স্টাইলিস্টা টা নামক একটি ম্যাগাজিনে তাকে ভারতবর্ষের সেরা পোশাক পরিহিতা দের মধ্যে একজন ধরা হয় । ভোটারদের সঙ্গে করমর্দন এর জন্য তাকে কার্যদর্শী হিসাবেও মূল্যায়িত করা হয়।
Mahua moitra , captured by Aslam Mondal
Mahua moitra , captured by Aslam Mondal

মৈত্র , যিনি তার ব্যাংকিং ক্যারিয়ারকে ত্যাগ করে রাজনীতির মধ্যে প্রবেশ করেন সেখানেও তিনি ব্যাংকিং ও রাজনীতির মধ্যে অনেক মিল খুঁজে পান।
তিনি রেডিফ নিউজ কে বলেন , " ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এর ক্ষেত্রে যেমন তিনটি জিনিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ঠিক তেমনই রাজনীতির ক্ষেত্রে ও। প্রথম জিনিসটা হচ্ছে হার্ড ওয়ার্ক অর্থাৎ কঠোর পরিশ্রম , সেটা মানসিক কিংবা শারীরিক হোক না কেন। দ্বিতীয় টি হচ্ছে সেল্ফ ডিসিপ্লিন অর্থাৎ আত্ম নিয়মানুবর্তিতা। রাজনীতি হচ্ছে একটা দীর্ঘ রাস্তা সেখান উঁচু-নিচু থাকবে। যদি নিয়মানুবর্তিতার না থাকে ,সে সহজেই হেরে যাবে । এবং তৃতীয়টি হচ্ছে অধ্যবসায় । রাজনীতির ক্ষেত্রেও অনেক উল্কাপিণ্ড থাকবে কিন্তু তার মধ্যে একটি থাকবে দৃঢ় সংকল্প যে এটিকে বাস্তবায়িত করতে পারবে।

অনেকেই ব্যাংকারের রাজনীতিবিদ এ পরিবর্তনের পর একজন নায়ক খুঁজে পেয়েছেন। এই বক্তিতা তাকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দিয়েছে। এই মহিলা বর্তমানে মমতা ব্যানার্জির উত্তরাধিকারী হিসেবে সর্বদায় চর্চিত হচ্ছে। তার বক্তৃতায় রাহাত ইন্দুরির উর্দু কবিতার উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হয়েছে তা হল , "Jo aaj saahibe masnad hain kal nahin honge/Kiraaydaar hain jaati makaan thodi hai, Sabhi ka khoon shaamil yahan ki mitti me/ Kisi ke baap ka hindustan thodi hai?(The man sitting in the throne will leave eventually. It’s not his own house; he is just a tenant. This soil has everybody’s blood in it. Nobody’s father owns India." (আরজে সিংহাসনে বসে আছে কাল থাকবে না/ সে একজন ভাড়াটে মাত্র ।এটা তার নিজের ঘর নয় / প্রত্যেকের রক্তে মিশে আছে এই মাটিতে।/ কারোর বাবার ভারত নয় এটি )।